এলাচির দাম কেজিপ্রতি রেকর্ড সাড়ে ৫ হাজার টাকা, জিরা ৯০০ টাকা এবং লবঙ্গের দাম এক হাজার ৯০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে এখন চলছে নীরব এক আপসের গল্প। বাঙালি রান্নার প্রাণ এই সুগন্ধি মসলাগুলো যেন রান্নাঘর থেকে বিদায় নিতে বসেছে।
লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে এসব মসলা, যা একসময় দৈনন্দিন রান্নার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। এখন বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।
মসলার এই আকাশছোঁয়া দামের কারণে এখন এক চরম বাস্তবতা মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে অসংখ্য পরিবার। শুধু অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে নিজেদের রান্নার চেনা স্বাদ বদলে ফেলছে তারা। বংশপরম্পরায় চলে আসা রান্নার চেনা রেসিপিগুলো এখন বাধ্য হয়ে পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
প্রতিদিন দেশের কোটি মানুষের রান্নাঘরে তরকারির ফোড়ন ঠিকই উঠছে, তবে তাতে আগের সেই সুবাস আর নেই। সামান্য কম জিরা আর এলাচি ছাড়াই এখন রান্না সারতে হয়। এর ফলে শুধু হাড়ির খাবারের স্বাদই কমছে না, বরং অতি চড়া দামের কারণে বাঙালির ঐতিহ্যও হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষের মনে তৈরি হচ্ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
স্বাদের চড়া মূল্য
সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার বাড়তি দাম বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জিরা, এলাচি, দারুচিনি ও গোলমরিচ, যা বাঙালি খাবারের আসল স্বাদ এনে দেয়—সেগুলো এখন রান্নায় প্রয়োজনের চেয়ে কম দেয়া হয়, অথবা একেবারেই বাদ পড়ে।
চট্টগ্রামের এক গৃহিণী নিজের নাম প্রকাশ না করে বলেন, আগে তিনি নিয়মিত পরিবারের জন্য সুস্বাদু ও সুগন্ধযুক্ত খাবার রান্না করতেন। কিন্তু এখন প্রতিদিনের রান্নায় মসলার ব্যবহার অনেক কমিয়ে দিয়েছেন। এমনকি কিছু কিছু দামি মসলা কেনা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন।
তার মতো এমন অভিজ্ঞতা এখন দেশের প্রায় প্রতিটি সাধারণ পরিবারের। অনেক পরিবার জানিয়েছে, তারা আগের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কম মসলা ব্যবহার করেন। এই পরিবর্তনের কারণে ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির কারণে আগে থেকে চাপে থাকা মাসিক বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম আগে একবারে ২০০ গ্রাম করে মসলা কিনতেন। কিন্তু এখন দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি মুদি দোকানির কাছ থেকে মাত্র ১০০ টাকার মিশ্র মসলা কেনেন, যার ওজন ৫০ গ্রামও হয় না।
আমদানিকারকদের চোখে দাম বৃদ্ধির চিত্র
দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি মসলার বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা এই সংকট খুব কাছ থেকে দেখছেন। শীর্ষস্থানীয় পাইকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেসার্স হাজী ইসহাক সওদাগরের স্বত্বাধিকারী ও মসলা আমদানিকারক মোহাম্মদ সেকান্দার হোসেন জানান, গত পাঁচ বছরে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারেই প্রায় সব ধরনের মসলার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তার মতে, এই সময়ে বেশিরভাগ মসলার দাম গড়ে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
তিনি আরও জানান, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচির দাম। পাঁচ বছর আগে যে এলাচি প্রতি কেজি দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন মানভেদে চার থেকে সাড়ে পাঁচ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জিরার দামও প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আগে এক কেজি জিরা চারশ’ থেকে সাড়ে চারশ’ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা বিক্রি হচ্ছে আটশ’ থেকে নয়শ’ টাকায়।
সেকান্দার হোসেন জানান, লবঙ্গের দাম প্রতি কেজি দেড় হাজার টাকা থেকে বেড়ে এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকা হয়েছে। দারুচিনির দাম তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম ওঠানামা করলেও তা আগের বছরগুলোর চেয়ে বেশ চড়া।
আন্তর্জাতিক বাজারে উৎপাদন ঘাটতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটের কারণে গোলমরিচের দামও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সামনে কোরবানির ঈদ থাকায় ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, মসলার দাম আরও বাড়তে পারে।
আমদানি তথ্যে বড় বৈপরীত্য
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিগত ছয় বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের মসলা বাণিজ্যে একটি বড় ধরনের অসঙ্গতি চোখে পড়ে। দেখা যাচ্ছে, মসলা আমদানির পরিমাণ ওঠানামা করার পর সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কমে গেছে। কিন্তু আমদানিকারক ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর আর্থিক বোঝা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৬ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা শুল্ক-কর পরিশোধ করে ৯ লাখ ৪১ হাজার ৭৯২ টন ১৪ ধরনের মসলা আমদানি করেছিল। পরের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে আমদানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১০ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৪ টনে এবং এর মূল্য ছিল প্রায় ৮ হাজার ৮০ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে মসলা আমদানি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, যখন ১৩ লাখ ৬৭ হাজার৬০৯ টন মসলা আমদানি করা হয়, যার মূল্য ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা।
তবে এরপরের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। ২০২৪ সালে মসলা আমদানির পরিমাণ কমে ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৭৯৯ টনে নেমে এলেও এর মোট আমদানিমূল্য বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৩ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকায়। ২০২৫ সালে আমদানির পরিমাণ আরও কমে ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮১২ টনে দাঁড়ায়, কিন্তু শুল্কসহ আমদানিমূল্য ১১ হাজার ১৮৭ কোটি টাকার মতো চড়া ছিল। ২০২৬ সালের ১৪ মে পর্যন্ত ৪ হাজার ২০৩ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের এক লাখ ৯৩ হাজার ৭০৬ টন মসলা আমদানি করা হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, কম মসলা আমদানি করেও বাংলাদেশকে আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতির পেছনে দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়ন। দ্বিতীয়ত, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ থেকে মসলা আমদানির শুল্কায়নের মূল্য বা অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বারবার বৃদ্ধি করা।
২০২১ সালে ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ থেকে ৮৬ টাকা, যা এখন স্থানীয় বাজারে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকার পরও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আমদানিকৃত মসলার সর্বনিম্ন শুল্কায়ন মূল্য বারবার বাড়িয়েছে। এর সম্মিলিত প্রভাব পড়েছে বাজারের ওপর।
গত ছয় বছরে বাংলাদেশে মসলার আমদানি খরচ ৪০ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে জিরা ও এলাচির মতো দামি মসলার ক্ষেত্রে টনপ্রতি খরচ বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। এই বাড়তি খরচ খুচরা বাজারে দাম বাড়ানোর মাধ্যমে সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
রেস্তোরাঁ ব্যবসায় মন্দার হাওয়া
মসলার এই চড়া দামের প্রভাব শুধু বাসাবাড়ির রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ নেই। দেশের সম্ভাবনাময় রেস্তোরাঁ শিল্প, যেখানে বিরিয়ানি থেকে শুরু করে সব ধরনের ঐতিহ্যবাহী মাংসের তরকারিতে মসলাই প্রধান উপাদান, সেটিও এখন গভীর সংকটে পড়েছে।
বারকোড রেস্তোরাঁ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনজুরুল হক বলেন, মসলার দাম বৃদ্ধির কারণে রেস্তোরাঁ পরিচালনার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। তারা কিছু খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। তবে ক্রেতারা এমনিতেই আর্থিক চাপে থাকায় বাজারের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে পুরোপুরি দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগরের সিনিয়র সহসভাপতি সৈয়দ আব্দুল হান্নান বাবুও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জিরা, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে খাবারের দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। এর ফলে লাভের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
তিনি জানান, শুধু মসলার বাড়তি খরচের কারণেই কিছু রেস্তোরাঁ মেনুর দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। গত বছর যে বিরিয়ানির প্লেট ১৮০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন ২০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তারপরও লোকসানের মুখে পড়ছে অনেক রেস্তোরাঁ।
চোরাচালানের কালো ছায়া
এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে অবৈধ চোরাচালান। খাতুনগঞ্জের আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, প্রতিবেশী ভারত থেকে অবৈধ পথে প্রচুর পরিমাণে মসলা দেশে ঢুকছে। চোরাচালানের মাধ্যমে আসা এই মসলায় কোনো শুল্ক বা কর দিতে হয় না বলে তা কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়। ফলে বৈধ আমদানিকারকরা চরম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন।
চট্টগ্রাম মসলা আমদানিকারক সমিতির সভাপতি অমর কান্তি দাস বলেন, তারা এখন প্রতি কেজি জিরায় ৬০ টাকারও বেশি লোকসান দিয়ে বিক্রি করছেন।
ভারত থেকে চোরাই পথে এলাচি, মৌরি ও অন্যান্য মসলা দেশে আসছে। সরকার যদি এই অবৈধ প্রবেশ বন্ধ করতে না পারে, তবে বৈধ আমদানিকারকরা ধীরে ধীরে মসলা আমদানি কমিয়ে দেবেন। অমর কান্তি দাস সতর্ক করে বলেন, এমনটা হলে পুরো মসলা বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে, যা বাজারে ঘাটতি তৈরি করবে এবং দাম আরও বাড়িয়ে দেবে।
সামগ্রিক চিত্র ও আশার আলো
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক মসলার চাহিদা ৩৫ লাখ টনেরও বেশি। এই চাহিদার ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ আমদানি করে মেটানো হয়। দেশের অভ্যন্তরীণ মসলার বাজারের আকার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ প্রায় ৫০ ধরনের মসলা চাষ করলেও মাত্র কয়েকটি মসলা পর্যাপ্ত পরিমাণে দেশে উৎপাদিত হয়। এমনকি পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও হলুদের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার জাতীয় চাহিদা মেটাতেও আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়।
তবে এর মধ্যেই কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের উদ্যানবিদ্যা বিশেষজ্ঞ মো. ময়নুল হক জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩০ হেক্টর জমিতে ৬৩ লাখ ৮০ টন মসলা উৎপাদন করেছে। আশাব্যাঞ্জক বিষয় হলো, দেশটিতে সম্প্রতি গোলমরিচ ও দারুচিনির মতো আগে সম্পূর্ণ আমদানি-নির্ভর মসলার চাষ শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ভবিষ্যতের ভাবনা
আপাতত মসলার বাজার বেশ অস্থির। টাকার ওপর চাপ, কাস্টমস নীতিমালার পরিবর্তন এবং চোরাচালান রোধ করার চ্যালেঞ্জের মুখে ভোক্তা ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষই যে যেভাবে পারছে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিছু পরিবার স্থানীয় বিকল্প মসলা ব্যবহারের চেষ্টা করছে, রেস্তোরাঁগুলো রান্নার ধরনে পরিবর্তন আনছে এবং আমদানিকারকরা সরকারের কাছে স্পষ্ট নীতিমালার দাবি জানাচ্ছেন।
একটি বিষয় নিশ্চিত, দেশে খাবারকে সংস্কৃতির অংশ মনে করা হয়, সেখানে মসলার দাম এখন আর সাধারণ বাজারের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সরকারি নীতিমালার কার্যকারিতা এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবের একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামনে বর্ষা মৌসুম আসছে এবং বাজারগুলো পরবর্তী চাহিদার জন্য তৈরি হচ্ছে। এমন অবস্থায় সবার চোখ থাকবে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে। কঠোর নজরদারির মাধ্যমে কি চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব হবে? স্থানীয় উৎপাদন কি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যাবে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সাধারণ মানুষ কি কোনো আর্থিক উদ্বেগ ছাড়া প্রতিদিনের রান্না করার স্বস্তি ফিরে পাবে? আপাতত এই প্রশ্নের উত্তর সময়ের ওপরই নির্ভর করছে।


