ফরিদপুরের নগরকান্দায় মসজিদের ভেতরে এক ছেলে শিশুকে বলাৎকার চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ওই ব্যক্তির নাম আলী হোসেন। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীনের আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী রতন জানান, মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন ও সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
তিনি বলেন, ‘শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ও বলাৎকার চেষ্টার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে আদালত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ রায় সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।’
মামলার এজাহারে বলা হয়, নগরকান্দা উপজেলার ছাগলদী দক্ষিণপাড়া এলাকার এক বাসিন্দা তার ছেলেকে স্থানীয় একটি মাদরাসায় ভর্তি করেন। পাশাপাশি ছেলেকে ধর্মীয় শিক্ষা নিতে হাফেজ ও মাওলানা অভিযুক্ত আলী হোসেনের কাছে পাঠানো হতো।
২০২৫ সালের ৬ মার্চ ঘটনার দিন সকালে শিশুটি অভিযুক্তের দোকানে গেলে কৌশলে তাকে পাশের একটি মসজিদের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুটিকে একা পেয়ে বলাৎকারের চেষ্টা চালান ওই মসজিদের ইমাম।
একপর্যায়ে শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্তকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।
ঘটনার পর শিশুটির বাবা নগরকান্দা থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেয়।


