মমতা ও অভিষেককে বাদ দিয়ে ‘আসল তৃণমূলের’ নতুন কমিটি

মমতা ও অভিষেককে বাদ দিয়ে ‘আসল তৃণমূলের’ নতুন কমিটি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপারসনের পদ থেকে অপসারণ এবং দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাময়িক বহিষ্কার (সাসপেন্ড) করেছে বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’।

একই সঙ্গে এই বিদ্রোহী শিবির দলের একটি নতুন কমিটিও ঘোষণা করেছে। রোববার কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে, দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল। তার জবাবে এবার পাল্টা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে দলটির মূল নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার দাবি জানাল এই বিদ্রোহী শিবির। নিউ টাউনের বৈঠকে উলুবেড়িয়া পূর্ব আসনের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা সভায় ৬০ জন বিধায়ক (এমএলএ) ও কলকাতা পৌরসংস্থার (কেএমসি) ৭০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে দলীয় প্রধানের পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে হাওড়া মধ্য আসনের বিধায়ক অরূপ রায়কে। অরূপ রায়ই এখন ‘আসল তৃণমূলের’ নতুন চেয়ারপারসন। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, দলে তৈরি হওয়া এক চরম ‘সাংবিধানিক সংকট’ দূর করতেই এই জরুরি সভা ডাকা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ঋতব্রত যুক্তি দেন, তৃণমূলের দলীয় সংবিধান অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর ‘জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি’ গঠন করা বাধ্যতামূলক। দলে সর্বশেষ ওয়ার্কিং কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দলের সাংগঠনিক কাঠামো আর নবায়ন বা পুনর্গঠন না করায় দলীয় সংবিধান মেনে জাতীয় নেতৃত্বকে পুনর্গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল বলে তিনি জানান।

এই নতুন কমিটির আত্মপ্রকাশের পর অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (এটিএমসি) এখন স্পষ্টত তিনটি পৃথক শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রথমে আছে মমতার নেতৃত্বাধীন মূল সাংগঠনিক ধারা। এরপর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী অংশ, যারা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রধান বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের দাবি করছে। তিন নম্বরে আছে তৃণমূলের প্রায় ২৪ জন লোকসভা সদস্য বা এমপি, যারা ইতোমধ্যে ‘ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি’ নামের একটি স্বল্প পরিচিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একীভূত হয়ে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকারকে সমর্থন দিচ্ছেন।

এদিকে এই দলীয় কোন্দল ও বহিষ্কারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের প্রকৃত নেতা বা কার আদর্শ সঠিক–তা নিয়ে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিদ্রোহী সাংসদেরা ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তৃণমূলের দলীয় প্রতীক ও লোগো নিজেদের দাবি করে তারা খুব শিগগির ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন। তবে দলের ১ হাজার ১০০ কোটি রুপির বিশাল নির্বাচনী তহবিল শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের পকেটে যাবে, তা নিয়ে এখনো চরম ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad