যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে বিভ্রান্তি: ইরানের সরাসরি অস্বীকার
চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা আলোচনা-প্রক্রিয়া শুরু হয়নি বলে জানিয়েছে ইরান। সোমবার দেশটির কর্মকর্তারা বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ কোনো যোগাযোগই হয়নি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘খুবই ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে শেষ করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই আলোচনার অগ্রগতির কারণে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর পরিকল্পিত হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো ট্রাম্পের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছে। তারা বলছে, দুই দেশের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি এবং এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে—এমন দাবি নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানের অবস্থান এবং যুদ্ধের অবসান সংক্রান্ত শর্ত অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাঘাই জানান, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার অনুরোধ নিয়ে কিছু ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশের মাধ্যমে বার্তা পাওয়া গেছে।
এদিকে, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি।
তিনি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে জটিল পরিস্থিতিতে আটকে আছে, সেখান থেকে বের হতে আর্থিক ও তেলবাজারকে প্রভাবিত করতে ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের অবস্থানের এই স্পষ্ট পার্থক্য সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ইরান ইস্যুতে ‘প্রধান বিষয়ে অগ্রগতি’, বললেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে এবং দুই পক্ষ প্রধান প্রধান বিষয়ে একমতের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় সোমবার ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান, মিসিসিপির মেমফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে।
ট্রাম্প বলেন, রোববার শুরু হওয়া আলোচনা সোমবারও চলবে। তার ভাষায়, ‘আমাদের মধ্যে বেশ জোরালো আলোচনা হয়েছে। বিষয়গুলো কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা দেখার বিষয়। তবে আমি বলব, প্রধান প্রধান বিষয়ে আমরা ঐকমত্যের ক্ষেত্র তৈরি করতে পেরেছি-এমনকি অনেক ক্ষেত্রে একমতের কাছাকাছি পৌঁছেছি।’
তিনি আরও বলেন, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং যুক্তরাষ্ট্রও একই লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। ‘আজ সম্ভবত ফোনে আবারও কথা হতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।
ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জারেড কুশনার আলোচনায় যুক্ত আছেন।
যদিও ইরানের পক্ষ থেকে কারা আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি। তবে ট্রাম্পের দাবি, তেহরানের একজন শীর্ষ পর্যায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এই সংলাপে যুক্ত ছিলেন।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বিষয়ে অনিশ্চয়তার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে এখনো কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি এবং তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও নিশ্চিত নন। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, তিনি মোজতবা খামেনির মৃত্যুকামনা করেন না।
সূত্র: আল-জাজিরা
ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি, দাবি ইরানের
ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত রাখার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা সম্পর্কে তেহরান স্পষ্ট করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এমন কোনো সংলাপের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

সোমবার ট্রাম্পের ঘোষণার পর মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তার মন্তব্যের উদ্দেশ্য মূলত জ্বালানির দাম কমানো এবং মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় জোগানো। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক দেশগুলো কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু এই উদ্বেগগুলোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা প্রয়োজন, কারণ তারা ‘এই যুদ্ধ শুরু করেছে’।
এর আগে ট্রাম্প পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিরুদ্ধে শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড চূড়ান্তভাবে সমাধানের বিষয়ে ইতিবাচক আলাপ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিস্তারিত আলোচনার মেজাজ বিবেচনা করে আমি প্রতিরক্ষা বিভাগকে পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছি। তবে এটি চলমান বৈঠক ও আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার পর তেলের দাম ১৩ শতাংশের বেশি কমে যায়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৪ দশমিক ১ ডলারে বেচাকেনা হয়, যা ৭ দশমিক ২ শতাংশ কম। একপর্যায়ে দাম ৯৬ ডলারে নেমে আসে।
মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৭ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৯০ দশমিক ৫৫ ডলারে দাঁড়ায় এবং সর্বনিম্ন ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে নেমে আসে, যা ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ দরপতন নির্দেশ করে।
এর আগে ট্রাম্প বাংলাদেশ সময় রবিবার ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে হুমকি দিয়ে বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খোলা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে। পাল্টা হুমকি দিয়ে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে মধ্যপ্রাচ্যের সব বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা করা হবে, বিশেষ করে মার্কিন মালিকানাধীন স্থাপনায়। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করার এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে প্রণালিটি আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে।
চলমান যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিশ্র বার্তা দিয়েছেন। তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলারের কাছাকাছি গেলে তিনি দ্রুত যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে ‘সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত’ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
সূত্র: আল-জাজিরা
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ার
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী চো হিউন ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ, চলমান সংঘাতের কারণে অর্থনীতিতে প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, এশিয়ার শেয়ারবাজারে ধস নেমে এসেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা ওয়ান ১৭ বছরের নিম্নস্তরে নেমেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সমাধানে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পূর্ণ ও মোট সমাধান নিয়ে ‘খুবই ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শেষের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
এর প্রেক্ষিতে তিনি সোমবার ঘোষণা করেছেন, ইরানের জ্বালানি-সংক্রান্ত অবকাঠামোতে মার্কিন সব সামরিক আক্রমণ পাঁচ দিন স্থগিত রাখা হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এই আলোচনা চলবে এবং তার প্রশাসন এই আলোচনার সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে সামরিক কার্যক্রম পাঁচ দিনের জন্য থামিয়ে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোস্যাল’ এ দেওয়া পোস্টে জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য এবং শেয়ার বাজারে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সাময়িক শিথিল হওয়ার আশায় বিপুল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে প্রণালিটি তারা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কখনো কখনো ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রণালিটি খুলে দিতে গত শনিবার তিনি ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর রকেট হামলার দাবি হিজবুল্লাহর
দক্ষিণ লেবাননের তাইবেহ শহরের কাছে রকেট হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি সামরিক যান এবং সেনাদের একটি সমাবেশকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে দাবি হিজবুল্লাহর।
এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা নাকোরা পৌরসভা ভবনের কাছে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে একঝাঁক রকেট নিক্ষেপ করেছে।
তবে আল জাজিরা এসব দাবি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করেতে পারেনি এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপসাগরে মাইন পোঁতার হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিল সতর্ক করে বলেছে, দেশটির উপকূল বা দ্বীপে কোনো ধরনের হামলার চেষ্টা হলে পারস্য উপসাগরের সব যোগাযোগপথে মাইন পোঁতা হবে।
এই হুঁশিয়ারি এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা সোমবার শেষ হচ্ছে। ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন।

ইরান বলছে, সম্ভাব্য হামলার জবাবে তারা কৌশলগতভাবে সমুদ্রপথে মাইন বসাতে পারে, যা পুরো উপসাগরজুড়ে নৌ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইরান যদি প্রণালি খুলে না দেয়, তবে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে এ উত্তেজনা জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
সৌদি আরবে প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের
ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। তাদের ইসলামিক রেভ্যুলিউশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র একথা জানান।
তারা আরও দাবি করেছে, প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে মার্কিন গোয়েন্দা বিমান মোতায়েন রয়েছে। পরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মোতায়েন ও অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বলেও উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুথি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম আল মাশিরা জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি আরাশ-২ আক্রমণ ড্রোন ব্যবহার করে বেন গুরিওন বিমান ঘাটির কাছাকাছি ‘জায়নিস্ট অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্টারে’ হামলা চালিয়েছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র; আল জাজিরা
খোররামাবাদে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ শিশু নিহত
ইরানের তেহরানের পশ্চিমে খোররামাবাদ শহরে বিমান হামলায় ধেসে পড়া ভবনে অন্তত একটি শিশু নিহত হয়েছে।
ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আবাসিক ওই ভবনে হামলার ফলে অন্তত একজন শিশু নিহত হয়েছে।
ফার্স প্রকাশিত একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত অবস্থায় ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে থাকা মানুষদের খুঁজছেন।
এক নারী সংবাদ সংস্থাটিকে জানান, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটিতে একজন বৃদ্ধা নারী বসবাস করতেন।
ফার্সের তথ্যমতে, এই হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত নিহত ও আহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি খুবই গুরুতর
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ‘খুবই গুরুতর। এই সংকট ১৯৭০ দশকের এবং ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মিলিত জ্বালানি সংকটের চেয়েও খারাপ।
ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব অব অস্ট্রেলিয়াতে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, চলমান সংকটের সবচেয়ে বড় সমাধান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর যা ইরান কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দিতে একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছেন, তা না হলে তেহরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
জবাবে ইরান জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত করা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি স্থাপনা এবং লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতেও হামলা চালানো হবে।


