টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-১ প্রসিকিউশনে জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি জানান, গুম থাকা অবস্থায় র্যাবের এক সদস্য তাকে বলেছিলেন, ‘আপনি র্যাব-১-এ ছিলেন। ওখান থেকে কেউ ফিরে আসে না। আল্লাহ আপনাকে বাঁচিয়েছে যে আপনি এ পর্যন্ত চলে এসেছেন।’
সাক্ষী শফিকুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি রাজধানীর জাপান গার্ডেন সিটি এলাকা থেকে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৬ মাস কারাভোগের পর তিনি জামিন পান।
জবানবন্দিতে তিনি গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত র্যাব সদস্য এবং তাদের হাইকমান্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
শফিকুল গুম থাকাকালীন সময়ের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘একদিন তাকে নিজস্ব কাপড় ফিরিয়ে দিয়ে প্রস্তুত হতে বলা হয়। এরপর ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা গাড়ি চলার পর একটি স্থানে নামিয়ে খাবার দেওয়ার সময় চোখের বাঁধন আলগা করা হলে তিনি দেয়ালে ‘র্যাব-১৩, রংপুর’ লেখা দেখতে পান। সেখান থেকে পুনরায় এক-দুই ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে নীলফামারীর র্যাব-১৩-তে নেওয়া হয়। পরে একটি মিথ্যা মামলায় আসামি করে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।’
শফিকুল ইসলামের জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি টিটো তাকে জেরা শুরু করেন। জেরা অসমাপ্ত থাকা অবস্থায় শুনানি বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
এর আগে, ২১ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী হিসেবে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান জবানবন্দি দিয়েছিলেন।
টিএফআই সেলে গুমের দায়ে গত ২২ ডিসেম্বর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ১০ সেনা কর্মকর্তা হলেন কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, কর্নেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কর্নেল কে এম আজাদ, কর্নেল মো. কামরুল হাসান, কর্নেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল মোমেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারোয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন।
মামলার পলাতক ৭ আসামি হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি এম খুরশিদ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মো. হারুন অর-রশিদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খায়রুল ইসলাম।


