মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এই পরীক্ষা আগামী ২০ মে পর্যন্ত চলবে। প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলা পরীক্ষা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হবে।
এবার দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড থেকে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে তিন লাখ চার হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন। সারা দেশে তিন হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষে আগামী ৭ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৮ জুনের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের হাতে লেখা নম্বরপত্র, ব্যবহারিক উত্তরপত্রসহ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় সকল নথিপত্র এবং স্বাক্ষরলিপি রোলের ক্রমানুসারে সাজিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা শাখায় হাতে হাতে জমা দিতে হবে।
গত ১৮ এপ্রিল কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। যানজট কমানো এবং জনগণের ভোগান্তি লাঘবের উদ্দেশ্যে পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশের ক্ষেত্রে আগের নিয়মগুলোই বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সময় অনুযায়ী প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই ধরনের পরীক্ষার মাঝখানে কোনো বিরতি থাকবে না।
শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলোর নম্বর এনসিটিবির নির্দেশনা অনুযায়ী ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই নম্বর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে জমা দেবে এবং কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ব্যবহারিক নম্বরের সাথে তা অনলাইনে বোর্ডের ওয়েবসাইটে আপলোড করবে।
ওএমআর শিটে পরীক্ষার্থীদের রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং বিষয় কোড যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। কোনোভাবেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল, বহুনির্বাচনী এবং ব্যবহারিক—এই তিনটি অংশেই আলাদাভাবে পাস করতে হবে। পরীক্ষার্থীরা কেবল তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডে উল্লেখিত বিষয়গুলোতেই অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এর বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে কেবল শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন। কেন্দ্র সচিব ব্যতীত অন্য কারো কেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন বা ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ব্যবহারিক পরীক্ষাগুলো পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে পরীক্ষার্থীরা ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এই আবেদনের প্রক্রিয়া, তারিখ এবং সময় পরবর্তীতে জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেওয়া হবে।


