ভোলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মোট ২৯ প্রার্থীর মধ্যে ২১ জন জামানত হারিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শামীম রহমান নিজ কার্যালয়ের হলরুমে বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা করেন।
ইসির পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় মোট প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
ভোলা-১ (সদর)
এই আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ১৩ হাজার ১৮১। এর এক-অষ্টমাংশ ২৬ হাজার ৬৪৮ ভোট। এ সংখ্যা অর্জন করতে না পারায় ছয় প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
চেয়ার প্রতীকে ৩০৩ ভোট পেয়ে ইসলামীক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশ্রাফ আলী, ট্রাক প্রতীকে ১ হাজার ১০৩ ভোট পেয়ে গণঅধিকার পরিষদের মো. আইনুর রহমান জুয়েল মিয়া, লাঙ্গল প্রতীকে ৫৯৯ ভোট পেয়ে জাতীয় পার্টির মো. আকবর হোসাইন, আম প্রতীকে ২১৭ ভোট পেয়ে এনপিপির মো. মিজানুর রহমান, সূর্যমুখী ফুল প্রতীকে ১৩৪ ভোট পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম এবং হাতপাখা প্রতীকে ২৫ হাজার ২৪৫ ভোট পেয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ওবায়দুর রহমান জামানত হারান।
এ আসনে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিজেপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি জোটের প্রার্থী আন্দালিব রহমান পার্থ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৩৩৭ ভোট।
ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন)
মোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ২১ হাজার ৬২২। এর এক-অষ্টমাংশ ২৭ হাজার ৭০৩ ভোট। এ আসনে ছয় প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
লাঙ্গল প্রতীকে ৪৫০ ভোট পেয়ে জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম, ফুটবল প্রতীকে ২৯১ ভোট পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাছলিমা বেগম, হাঁস প্রতীকে ৫৪৬ ভোট পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিব্যুল্লাহ খোকন, ছাতা প্রতীকে ৩৮১ ভোট পেয়ে এলডিপির মোকফার উদ্দিন চৌধুরী, প্রজাপতি প্রতীকে ৩৭০ ভোট পেয়ে আমজনতার দলের আলাউদ্দিন এবং মোটরসাইকেল প্রতীকে ৫৯৬ ভোট পেয়ে মো. জাকির হোসেন খন্দকার জামানত হারান।
১৩৯টি কেন্দ্র ও একটি পোস্টাল ভোটকেন্দ্রে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফজলুল করিম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭০৩ ভোট।
ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন)
এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ১৭ হাজার ৯০১। এর এক-অষ্টমাংশ ২৭ হাজার ২৩৮ ভোট। চার প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
ট্রাক প্রতীকে ২৬০ ভোট পেয়ে গণঅধিকার পরিষদের আবু তৈয়ব, লাঙ্গল প্রতীকে ৭৮৯ ভোট পেয়ে জাতীয় পার্টির কামাল উদ্দিন, হাতপাখা প্রতীকে ৭ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে ইসলামী আন্দোলনের মো. মোসলেহ উদ্দিন এবং হেলিকপ্টার প্রতীকে ৫০৮ ভোট পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রহমত উল্লাহ জামানত হারান।
১২০টি কেন্দ্র ও একটি পোস্টাল ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থী মুহা. নিজামুল হক ৫৭ হাজার ৩৫১ ভোট পান।
ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা)
এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ৩ হাজার ৬০৯। এর এক-অষ্টমাংশ ৩৭ হাজার ৯৫১ ভোট। পাঁচ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) আবুল কালাম ২০৮ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ২৩৫ ভোট, আমজনতার দলের মো. জালাল উদ্দীন রুমি ১৭৬ ভোট, জাতীয় পার্টির মো. মিজানুর রহমান ৫৪৩ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলনের আবুল মোকাররম মো. কামাল উদ্দিন ২৪ হাজার ৯৩৫ ভোট পান।
১৫৫টি কেন্দ্র ও একটি পোস্টাল ভোটকেন্দ্রে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোস্তফা কামাল পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩৭ ভোট।
ভোলার চারটি আসনেই বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা।


