মাত্র ৬৮ শিক্ষার্থী নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, দুই যুগের ব্যবধানে তা এখন পরিণত হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর এক প্রাণবন্ত শিক্ষাঙ্গণে। সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাস, গবেষণার অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক নানা উদ্যোগ এবং সময়োপযোগী নতুন বিভাগ–সব মিলিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) এখন শুধু একটি সনদ-প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা-পরিবেশের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০০২ সালে মাত্র দুটি অনুষদ নিয়ে যাত্রা শুরু করা ইউনিভার্সিটিতে এখন ছয়টি অনুষদের অধীনে ৩১টি বিভাগের কার্যক্রম চলমান। বাংলাদেশে পড়তে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণের ক্ষেত্রেও অন্যতম শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা দখল করেছে ডিআইইউ। এ ছাড়া পূর্ণকালীন, খণ্ডকালীন ও ভিজিটিং ফ্যাকাল্টিসহ দেশি-বিদেশি শিক্ষকের সংখ্যাও হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থীর আবাসিক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে ছায়াঘন এই ক্যাম্পাসে। ছাত্রদের তিনটি এবং ছাত্রীদের দুটি হলে আবাসিক থাকার সুযোগ পান অন্তত সাত হাজার শিক্ষার্থী। এসব হলে নিরাপত্তা, মানসম্মত খাবার, ইন্টারনেট ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি প্রায় ১০০ নিজস্ব বাসসহ মোট ১৩০টি বাস নিয়মিত পরিচালনার মাধ্যমে বাকি শিক্ষার্থীদের পরিবহন সেবা দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়াও গবেষণামূলক কাজ পরিচালনার জন্য অত্যাধুনিক গবেষণাগার, সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন ক্লাব-কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য সুবিশাল খেলার মাঠ এবং সবুজের গাছগাছালির সমারোহ–সব মিলিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি সমন্বিত একটি শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে এই ক্যাম্পাসে।
আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়গুলোতেও ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ স্থানগুলো ধরে রাখছে ইউআইইউ। এ বছরের ‘কিউএস ওয়ার্ল্ড সাসটেইনেবিলিটি র্যাঙ্কিংস ২০২৬’-এ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন এবং ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস ২০২৬’-এ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ডিআইইউ।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ‘ফিশারিজ ডিপার্টমেন্ট’
‘ব্লু-ইকোনমি’ খাতের নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে সম্প্রতি ডিপার্টমেন্ট অব ফিশারিজ চালু করেছে ডিআইইউ। দেশের প্রথম এবং একমাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এই উদ্যোগের পেছনে বিপুল অর্থ ও সম্পদ বিনিয়োগ করেছে কর্তৃপক্ষ। ‘ট্রাই সেমিস্টার’ পদ্ধতিতে প্রথম বর্ষের তিনটি সেশনের মধ্যে মাত্র একটি সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে এই বিভাগে। ‘ফল সেশন’-এ ভর্তি চলছে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর ‘স্প্রিং সেশন’-এ ভর্তির মাধ্যমে প্রথম বর্ষের তিনটি সেমিস্টারের চক্র পূর্ণ হবে এখানে।
ফিশারিজ ডিপার্টমেন্টের প্রধান অধ্যাপক খন্দকার আনিছুল হক টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের বিষয়টিকে মাথায় রেখে এই বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি হাতে-কলমে ব্যবহারিক শিক্ষা ও ইন-ডেপথ গবেষণাকে গুরুত্ব দিয়ে কোর্স কারিকুলাম সাজানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন ফিশারিজ ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও কর্মক্ষম করে গড়ে তুলতে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে স্মার্ট ক্লাসরুম, আধুনিক ল্যাব প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অন্তত ১০ একর জায়গাজুড়ে ‘এক্সপেরিমেন্টাল পন্ড’ এবং ‘ফিশ হ্যাচারি’ তৈরির প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।’
বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প-কারখানার সঙ্গে নতুন বিভাগের ইন্টার্নশিপ এবং যৌথভাবে গবেষণামূলক কাজ করার সংযোগও তৈরি করা হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক খন্দকার আনিছুল হক।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অনেক বিষয় বিবেচনা করে ইউজিসি থেকে নতুন বিভাগ খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। ফ্যাকাল্টি স্ট্রেন্থ, ল্যাব ফ্যাসিলিটিজ, টিউশন ফি–এসব খুব গুরুত্বপূর্ণ। ড্যাফোডিল ভালো ইউনিভার্সিটি। তাদের ক্যাম্পাস সুন্দর এবং আধুনিক। তাদের সেই স্ট্রেন্থ আছে। ইউজিসি সব বিষয়ে জেনে সেখানে ফিশারিজ বিভাগ খোলার অনুমতি দিয়েছে।’
কৃষি গবেষণায় অগ্রাধিকার
আধুনিক কৃষি শিক্ষা ও গবেষণাতেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্সের প্রধান অধ্যাপক এম এ রহিম টাইমসকে বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি যতটা আধুনিক, তা কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও নেই। গত কয়েক বছর ধরে নিজস্ব গবেষণাগারে গবেষণা করে আমরা কাঁঠালের চারটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছি এবং সেগুলোর নিবন্ধনও পেয়েছি। এখনো লটকন, আনারস ও পেঁপের কিছু উন্নত জাত উদ্ভাবনের কাজ প্রায় শেষের দিকে। খুব শিগগির এগুলোর নতুন জাতের নিবন্ধন পেয়ে যাব।’
বিভাগের সব শিক্ষার্থীকে এসব গবেষণামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হয় বলেও জানান ২০২৬ সালে স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত এই গবেষক।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি গবেষণা শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যাতে হাতে-কলমে সবকিছু আয়ত্তে আনতে পারে, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষকরা কাজ করছেন।’
বন্যার পর বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ড্যাফোডিল থেকে উদ্ভাবন করা জাতের বীজসহ দুর্যোগ সহনশীল ও দ্রুত বর্ধনশীল ধান ও সবজির বীজ বিতরণ করা হয় বলেও জানান এম এ রহিম।
‘এবারও কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে অন্তত এক হাজার সবজির বীজের প্যাকেট এবং চার কোটি ধানের চারা বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে’, যোগ করেন তিনি।
এর ফলে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মাটির প্রকৃতি এবং ফসল সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের একটা অভিজ্ঞতা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদেরও উপকার হয় বলে জানান এই কৃষি বিজ্ঞানী।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় বিমা পলিসি
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিমা পলিসি চালু করেছে ডিআইইউ। কোনো শিক্ষার্থী ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা এই বিমা পলিসির আওতায় চলে আসেন। ফলে কোনো দুর্ঘটনায় যদি কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয় তাহলে তার পরিবারের জন্য বিমার আওতায় অর্থ সহযোগিতার ব্যবস্থা হয়। এমনকি অধ্যয়নরত কোনো শিক্ষার্থীর বাবা-মা (অভিভাবক) মারা গেলেও শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার খচে মেটানোর ক্ষেত্রে বিমা থেকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয় শিক্ষার্থীকে।
এখন পর্যন্ত এই বিমা সুবিধার আওতায় মোট ১৫ কোটিরও বেশি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা শোক বা সংকটের মুহূর্তে শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে।
এ ছাড়া, ভালো ফলাফল অর্জন করলে বিভিন্ন রকম বৃত্তির আওতায় আনা হয় শিক্ষার্থীদের। এমনকি কোনো না কোনোভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী কিছু না কিছু বৃত্তির আওতায় চলে আসেন বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ল্যাপটপ’
শিক্ষার্থীদের তথ্য-প্রযুক্তির সঙ্গে হালনাগাদ রাখতে ভর্তির সময় প্রতি শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে ল্যাপটপ তুলে দেয় ডিআইইউ কর্তৃপক্ষ। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সুবিধা ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা নিজেদের লেখাপড়া ও গবেষণাসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি পরিচালনা করতে পারে।
শিক্ষাজীবন শেষে চাকরির পরীক্ষার জন্য মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন রকমের ‘মক-টেস্ট’ নেওয়া এবং ‘ইন্টার্নশিপে’র মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন ক্লাব-কার্যক্রমের পরিচালনার মাধ্যমে তাদের সামাজিকীকরণ এবং যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়।
যুগের চাহিদা অনুসারে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেসব বিষয়ের ওপর একাডেমিক কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে নগরায়ণের ফলে জেলা পর্যায় পর্যন্ত ‘রিয়েল এস্টেট’ ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ায় ‘ডিপার্টমেন্ট অব রিয়েল এস্টেট’ চালু করা হয়েছে এখানে। এর মাধ্যমে শুধু জমি কেনা-বেচা ও ভবন নির্মাণসংক্রান্ত বিদ্যা নয়, বরং অর্থ এবং বাজারব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও বিস্তারিত শেখানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
তথ্য-প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশ এবং পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের ওপর দক্ষ নাগরিক গড়ে তুলতে ডিপার্টমেন্ট অব ইনোভেশন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ, ডিপার্টমেন্ট অব রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স, ডিপার্টমেন্ট অব ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস, ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, ডিপার্টমেন্ট অব নিউট্রেশন অ্যান্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পাবলিক হেলথের মতো বিষয়ে আধুনিক কারিকুলামে পূর্ণাঙ্গ কোর্স চালু করা হয়েছে।
এমনকি শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এর বহুমুখী প্রয়োগের ওপরও একটি স্বতন্ত্র বিভাগ চালুর প্রক্রিয়াও চলমান আছে ডিআইইউ’তে।
সবুজ ক্যাম্পাস থেকে ‘স্মার্ট সিটি’
২০০২ সালে ধানমন্ডিতে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে রাজধানীর অদূরে সাভার উপজেলার বিরুলিয়ায় স্থানান্তরিত হয় ডিআইইউ ক্যাম্পাস। এরপর প্রায় ৩০ একর বিস্তৃত জায়গা জুড়ে সুপরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে তোলা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ও নিজস্ব ক্যাম্পাস। সুবিন্যস্ত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক পথ এবং অবকাঠামো গড়ে তোলার ফলে আশেপাশের এলাকাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বদলে গেছে লাখো মানুষের জীবনব্যবস্থা। এসব কারণে এই ক্যাম্পাসটি এখন ‘ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটি’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে।
মাত্র ৬৮ জন শিক্ষার্থী থেকে ২৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীতে পৌঁছানোর এই যাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্রুত সম্প্রসারণের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এখন সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো গুণগত মান, উদ্ভাবন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থবহ সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ইতোমধ্যে দেশের মধ্যে সমন্বিত শিক্ষার এক পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা আত্মপ্রকাশ করেছে। এখানে শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষ, পাঠ্যসূচি বা সনদ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পঠনপাঠন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থী যাতে ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে সামগ্রিকভাবে প্রস্তুত করতে পারে, সেটাকে ভিত্তি করে এখানকার শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে।


