ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।
বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে এসব দাবি জানান তারা।
মহাজোট যে সাত দফা দাবি জানিয়েছে সেগুলো হলো-ভোটের ১০ দিন আগে ও পরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাসাবাড়ি, মঠ মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদার করা; ভোটে সেনা মোতায়েন; ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচার ও সমাবেশ না করা; ভোটে ধর্মের ব্যবহার না করা; হামলা হলে সেই আসনের ভোট স্থগিত ও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া; সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল করা এবং ভোট কেন্দ্রে যাওয়া ও আসার নির্বিঘ্ন ব্যবস্থা করা।
বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে।
তিনি বলেন, ‘সিইসি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা করেছেন। তিনি গুরুত্ব দিয়ে কথা শুনেছেন, বলেছেন যে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেছেন, “আপনারা সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন”, আমরাও (হিন্দু মহাজোট) কথা দিয়েছি নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে চাই।’
ভোটকেন্দ্র থেকে ফেরার পর বাসাবাড়ি, মঠ-মন্দির ভাঙচুর বা এই ধরনের পরিবেশ পরিস্থিতি যেন দেখতে না হয় সে বিষয়ে বৈঠকে সিইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বলে জানান পলাশ কান্তি দে।
হিন্দু মহাজোটের শঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভয়ের জায়গাটা অমূলক নয়। দুইটা সময় আমরা খুব উদ্বিগ্ন অবস্থায় থাকি–দুর্গা পূজা আর নির্বাচন।’
নির্বাচন কখনও হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য সুখকর ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার ও সংসদের প্রতিটি নির্বাচনের আগে-পরে, প্রত্যেকটা সরকারের সময় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর আঘাত হানা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
তবে এবার এমন পরিস্থিতি হবে না বলে সিইসি আশ্বস্ত করেছেন, জানান পলাশ কান্তি দে। তিনি বলেন, ‘সিইসি বলেছেন, এ দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং নিরাপত্তা নিয়ে বাসায় ফিরবেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে শক্ত ব্যবস্থা নেবে ইসি।’
আসন্ন নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভয় ভীতি প্রদর্শন ও স্থাপনায় আঘাত করলে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী শক্তভাবে ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।


