আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রচারে ধর্মীয় আবেগ ও ঐতিহাসিক যুদ্ধের উপমা ব্যবহার করায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে লালমনিরহাটে। জেলার হাতীবান্ধা উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সাতা নির্বাচনী লড়াইকে ইসলামের ইতিহাসের প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ ‘বদর যুদ্ধের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে হাতীবান্ধার দীঘিরহাটে লালমনিরহাট-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজুর নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
জনসভায় বক্তব্য চলাকালীন এশার নামাজের সময় হয়ে হলে তিনি ইমামকে নামাজ কিছুটা দেরিতে শুরু করার অনুরোধ জানান। উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বর্তমান এই নির্বাচনী লড়াই কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং এটি অনেকটা ইসলামের ইতিহাসের প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ ‘বদর যুদ্ধের’ মতো।
বক্তব্যে তিনি বিরোধীদের সমালোচনা করে বলেন, ‘ইতোপূর্বে যারা অন্যায় করেছেন, তারা আবারও সুযোগ সন্ধানে লিপ্ত। তবে আগামী দিনে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যবদ্ধ হয়ে জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে।’
একজন রাজনৈতিক নেতার মুখে ভোটের লড়াইকে পবিত্র যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ভোটার বলেন, ‘ভোট একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এটিকে ধর্মীয় যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা উসকানিমূলক এবং এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে।’
দীঘিরহাটের ওই সমাবেশে জামায়াতের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত থাকলেও হাবিবুর রহমান সাতার এই মন্তব্যই স্থানীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করার এই প্রবণতা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
উল্লেখ্য, ইসলামের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো বদর যুদ্ধ। ৬২৪ খ্রিস্টাব্দের এই যুদ্ধে আবু জাহলের নেতৃত্বে প্রায় এক হাজার সৈন্য বিশিষ্ট একটি সুসজ্জিত বাহিনী বদরের প্রান্তরে মুসলমানদের মোকাবিলায় আসে। অপরদিকে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নেতৃত্বে মাত্র ৩১৩ জনের এক ক্ষুদ্র বাহিনী ছিল, যারা সংখ্যায় কম হলেও ঈমানের শক্তিতে বলীয়ান ছিলেন। আল্লাহর সাহায্যে মুসলমানরা বিজয় অর্জন করেন। এই বিজয় ইসলাম ধর্ম বিস্তারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে ওঠে।


