ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে এবার ভারতকে সবুজ সংকেত দিল যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর পর কয়েকমাস আগেই দেশটি থেকে তেল কেনার অভিযোগে ভারতের ওপর ‘রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ’ বা ‘প্রতিশোধমূলক শুল্ক’ আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের সিংহভাগের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে থাকায় এবার মোদী সরকারের কাছে ওই তেল বিক্রিতে অনাপত্তি জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার তেল ভিটল বা ট্রাফিগুরার মতো আন্তর্জাতিক ট্রেডিং হাউসের মাধ্যমে বাজারজাত হবে নাকি সরাসরি ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ বিক্রি করবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউস ও মার্কিন ট্রেজারি বিভাগও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। ভারতের তেলমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও রয়টার্সকে ইমেইলে পাঠানো প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
রয়টার্স জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের মার্চে ভারতসহ ভেনেজুয়েলার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় তার প্রশাসন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তেল রপ্তানি চালু রাখায় তার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করে।
মাদক চক্রকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তুলে গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনী। তারপর থেকে ভেনেজুয়েলার রাজনীতি, সরকার এবং সম্পদের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বিলিয়ন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির জন্য এরইমধ্যে চুক্তি করেছে ওয়াশিংটন-কারাকাস। মূলত সেই তেলই ভারতের কাছে বিক্রি করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এদিকে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ান তেলের দাম কমে গেলে ভারত রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রেতায় পরিণত হয়। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের শাসনভার নিয়েই ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে বারবার রাশিয়ার কাছে থেকে তেল কেনা থেকে মোদী সরকারকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়ার পরও মস্কোর সঙ্গে তেল বাণিজ্য অব্যাহত রাখে দিল্লি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভারতীয় পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
দিল্লি-ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সম্পর্ক ঝুঁকিতে থাকায় মস্কো থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয় মোদী সরকার। তারা দেশের তেল চাহিদা নিয়ে শঙ্কা জানিয়ে একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় বসলেও কোনো ইতিবাচক ফল পায়নি।
গত সপ্তাহে ভারতের তেলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানান, রাশিয়ান তেল আমদানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভারত অপরিশোধিত তেলের উৎস নিয়েও বৈচিত্র্য তৈরি হয়েছে। আর এই সংকট পূরণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। রাষ্ট্রায়ত্ত হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম, ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালস এবং বেসরকারি মিত্তল এনার্জি এরইমধ্যে রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করেছে।
দিল্লি সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, জানুয়ারিতে প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল তেল মস্কো থেকে আমদানি করেছে দিল্লি। ফেব্রুয়ারিতে তা কমে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল এবং মার্চে ৮ লাখ ব্যারেলে নেমে আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই আমদানি দৈনিক ৫ থেকে ৬ লাখ ব্যারেল নেমে আসতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে ভারতকে সহায়তা করবে।


