ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৪ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসসমূহ যথারীতি খোলা থাকবে
শনিবার রাতে উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খানের সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়ালি এক সিন্ডিকেট সভা এ সিন্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সিন্ডিকেট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া চিকিৎসা অনুষদের ডিন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী সভায় অংশ নেন।
প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ভূমিকম্পের ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিটি কক্ষ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা জরুরি।
শিক্ষার্থীদের কক্ষ ত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি হলের প্রাধ্যক্ষ নিজ নিজ হল পর্যালোচনা করবেন এবং কোনো জরুরি পরিস্থিতি আছে কি না তা নিশ্চিত করবেন।
তিনি বলেন, রোববার বিকাল ৫টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছেড়ে দিতে হবে। হলগুলো ঠিকঠাক করে পরে বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে।

সভায় সম্প্রতি ভূমিকম্প ও তৎপরবর্তী ঝাঁকুনির কারণে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক আঘাতের বিষয়টি বিবেচনা করা হয় এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তার দিক সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় বুয়েটের বিশেষজ্ঞ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক এবং প্রধান প্রকৌশলীর মতামত বিশ্লেষণ করা হয়।
ভূমিকম্প পরবর্তী আবাসিক হলসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সামগ্রিক ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার দরকার বলে মত দেন তারা।
এর আগে, শনিবার সন্ধ্যায় এক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্প দুটির উৎপত্তিস্থল ঢাকার বাড্ডা এলাকা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুটি ভূমিকম্পের মধ্যে সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। এরপর এক সেকেন্ড পর সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে দ্বিতীয়বার ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে এটির মাত্রা ৪ দশমিক ৩। এ নিয়ে দেশে দুই দিনে চারবার ভূমিকম্প হয়।
তার আগে, সকালে আরেক দফা ভূমিকম্প হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানায়, শনিবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার এ কম্পন রেকর্ড করা হয়।
প্রথমে আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ দশমিক ৩ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎস জানিয়েছিল সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকা। পরে বিকালে জানায়, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর পলাশ উপজেলা। বিশ্লেষণে সমস্যার কারণে এই ভুল হয়েছিল বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, এটি একটি স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদীর মাধবদীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এতে শিশুসহ অন্তত ১০ জন প্রাণ হারান এবং আহত হন অন্তত ৪০০।


