ভূমিকম্পে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সদ্য নির্মিত ছয়টি দশতলা আবাসিক হলে নতুন ফাটল দেখা দিয়েছে। মেঝে, দেয়াল ও শৌচাগারের বিভিন্ন স্থানে ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্মাণে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলে আবারও ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা।
ভূমিকম্পের সময়কার ভয়ার্ত অভিজ্ঞতা জানিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থী সৌরভ বলেন, ‘ভূমিকম্পের সময় আমি ৬ তলায় ছিলাম। প্রায় ১৫ সেকেন্ড ধরে ভবনটি তীব্রভাবে কাঁপছিল। আমরা দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসি। আশেপাশের সবার মুখেই আতঙ্ক দেখেছি। পরে ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখতে পাই, যা আমাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পরই হলের শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ভবন থেকে বেরিয়ে খোলা মাঠে অবস্থান নেন। কম্পন শেষে ক্যাম্পাসে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরলেও তাদের মনে আতঙ্ক রয়ে গেছে। তিন বছর আগে নির্মিত এই নতুন হলগুলোর নির্মাণে নিম্নমান নিয়ে শুরু থেকেই তাদের অভিযোগ ছিল। এ নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ করেছেন জাবি শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবারের ভূমিকম্পের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। জীবননিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা জানিয়ে অবিলম্বে নির্মাণকাজে কারচুপি ও দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া, সব আবাসিক ভবনের গাঠনিক শক্তি পুনর্মূল্যায়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ‘নতুন হলগুলো বিগত প্রশাসনের সময় নির্মিত হয়েছে। নির্মাণের অনিয়ম ও দুর্নীতি বহুদিন ধরেই দৃশ্যমান। আমরা এরইমধ্যে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পর্যবেক্ষণ শুরু করেছি। প্রকৌশল বিভাগকে জরুরি তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ দলকে ফাটলের প্রকৃতি পরীক্ষার জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


