ভারতের নির্বাচনী পরামর্শ অগ্রহণযোগ্য: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভারতের নির্বাচনী পরামর্শ অগ্রহণযোগ্য: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। ফাইল ছবি
Advertisement
Advertisement

কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে সে বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে কোনো পরামর্শের প্রয়োজন বাংলাদেশের নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পরামর্শ “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য”।’

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ভারত তলব করে একটি প্রতিবাদপত্র দেওয়ার প্রেক্ষাপটে বুধবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিং করেন উপদেষ্টা। সেখানেই এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন পরিচালনার বিষয়ে ভারতের পরামর্শকে বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। বাংলাদেশ জানে কীভাবে একটি ভালো নির্বাচন করতে হয়। যে নির্বাচনে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে এবং এখানে কোনো প্রতিবেশীর উপদেশ প্রয়োজন নেই।’

তৌহিদ হোসেন ভারতের বর্তমান অবস্থানের ওপর প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে নয়াদিল্লি কোনো আপত্তি জানায়নি; যে সময়ে বাংলাদেশের নির্বাচনগুলো ছিল প্রহসনমূলক, কিন্তু দুই দেশের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মধুর।’

‘তখন ভারতের পক্ষ থেকে নির্বাচনের মান নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করা হয়নি। এখন যখন বাংলাদেশ একটি ভালো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন প্রশ্ন জাগে, ভারত কেন পরামর্শ দিচ্ছে?’

আরও পড়ুন

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই নাগরিকদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি।

অন্য দেশের পরামর্শ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ভারতের অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান থেকে আলাদা করে দেখে। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের জন্য উন্মুক্ত। ভারত ছাড়া অন্য দেশগুলো নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চললেও, ভারতের নির্দিষ্ট পরামর্শ গ্রহণ করতে পারছে না। কারণ অতীতে নয়াদিল্লি এ ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেনি।’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে; এই বাস্তবতাকে মেনে নেওয়াই ভালো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা সবসময় নয়াদিল্লির সাথে একটি কর্মসম্পর্ক বা ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ চেয়ে এসেছে, যদিও এ বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ যথেষ্ট অগ্রসর হতে পারেনি।’

কূটনৈতিক তলবের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, কূটনীতিতে এ ধরনের তলব এবং পাল্টা তলব অস্বাভাবিক কিছু নয়। বাংলাদেশ যখন ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করেছিল, তখন কিছু বার্তা দেওয়া হয়েছিল যা ভারত পক্ষ গ্রহণ করেনি। যার ফলে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad