‘ভুল প্রশ্নে’ এসএসসি পরীক্ষা, দুশ্চিন্তায় পরীক্ষার্থী-অভিভাবক

‘ভুল প্রশ্নে’ এসএসসি পরীক্ষা, দুশ্চিন্তায় পরীক্ষার্থী-অভিভাবক
ফাইল ফটো
Advertisement
Advertisement

এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন রাজধানীর একটি স্কুলে ভিন্ন সেটে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলছেন, এটা ভুল করে হয়েছে। মঙ্গলবার রামপুরার একরামুন্নেচ্ছা বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দ্বিতীয় সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। তবে ওই কেন্দ্রের অপর সেন্টারে ঠিক প্রশ্নেই পরীক্ষা হয়েছে।

ঢাকা বোর্ডের অধীনে বাংলা প্রথম পত্র লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এক নম্বর সেটে। কিন্তু একরামুন্নেচ্ছা স্কুলে বয়েজ বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় সেন্টারে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে তিন নম্বর সেটে। সেখানে পরীক্ষা দিয়েছেন ৭৬০ জন পরীক্ষার্থী।

এই ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মিজানুর রহমান হাওলাদারকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রশ্নপত্র ভুলের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না দাবি করে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন প্রধান শিক্ষক। এতে বলা হয়েছে, ‘উক্ত পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র তিন নম্বর সেটের প্রশ্ন অনুসারেই মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।’ তবে আশ্বস্ত হতে পারছেন না পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

ভুল সেটে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি পরীক্ষার্থীরা বুঝতে পারে অন্য স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনার সময়। এরপর অনেকেই দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারেনি বলে টাইমসকে বলেছে।

পরীক্ষার্থী তাওফিন আহমেদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলে, ‘পরীক্ষা দিয়ে বাসায় যাওয়ার পর প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করার সময় বুঝতে পারি যে আমরা অন্য সেটে পরীক্ষা দিয়েছি। এক নম্বর সেটের তুলনায় তিন নম্বর সেটের প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন ছিল।’

এই ঘটনাকে গুরুতর দায়িত্ব অবহেলা বলে অভিহিত করেছেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র সচিববের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন

এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। বলেন, ওই সেটের প্রশ্ন অনুসারেই শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন করা হবে। পরীক্ষার খাতা মিলিয়ে ফেলার আগেই ভুলের বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ওই সেন্টারের খাতাগুলো আলাদা করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

কীভাবে হলো এই ভুল

অসাবধানতার কারণে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে বলে দায় স্বীকার করেছেন কেন্দ্র সচিব মিজানুর রহমান হাওলাদার। তিনি জানান, পরীক্ষা শুরুর আগে অন্য একটি ফ্লোরের সিসিটিভি সংক্রান্ত জটিলতা দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যেই প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন সাইফুল ইসলাম নামের আরেকজন শিক্ষক। কিন্তু নিয়ম অনুসারে কেন্দ্র সচিবেরই প্রশ্নপত্র বিতরণ করার কথা।

প্রথা অনুসারে, কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে পরীক্ষার কেন্দ্রে বস্তাবন্দি করে দুটি পৃথক সেটের প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। বাংলা পরীক্ষার জন্যেও কেন্দ্রে ‘এক’ এবং ‘তিন’ নম্বর সেটের প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছিল। এরপর পরীক্ষার আগে মোবাইল ফোনে নির্ধারিত সেটের বার্তা আসার পর সেই সেটের প্রশ্নের বস্তা খোলার কথা কেন্দ্র সচিবের।

সেদিনও কেন্দ্র সচিবের মোবাইল ফোনে ‘এক’ নম্বর সেটে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে এসএমএস পাঠানো হয়। কেন্দ্র সচিব এসএমএসটি দেখে এক নম্বর সেটের বস্তাটি আলাদা করেন। কিন্তু বস্তাটি খোলেন আরেক শিক্ষক সাইফুল ইসলাম।

সাইফুল ইসলাম টাইমসকে বলেন, ‘দুটি বস্তা পাশাপাশি থাকায় ভুলেই তিন নম্বর সেটের বস্তাটি আমি দুজন সহকর্মীর উপস্থিতিতে খুলে বিতরণ করি। কেন্দ্র সচিব তখন সিসিটিভি সংক্রান্ত একটি সমস্যা সমাধানে অন্য কক্ষে গিয়েছিলেন। তিনি ফিরে আসার পর তিনিও আমাদের সঙ্গে প্রশ্নপত্র বিতরণ করেছেন।’

প্রশ্নপত্র খোলা হয়েছে দেখে আর সেটের বিষয়টি যাচাই করার চিন্তা মাথায় আসেনি বলে দাবি করেন কেন্দ্র সচিব। তিনি বলেন, ‘প্রশ্নের বস্তা আমারই খোলার কথা। কিন্তু পরীক্ষার সময় হয়ে আসায় ওরা খুলেছে। তবে আমি কাউকে নির্দেশনা দেইনি। কিন্তু কেন্দ্র সচিব হিসেবে এই দায় আমর ওপরেই বর্তায়। পরবর্তীতে প্রশ্নের সেটের বিষয়টি আমার পরীক্ষা করা উচিত ছিল।’

আরেক কেন্দ্রে অল্পের জন্য রক্ষা

একইদিন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রেও ভুল প্রশ্ন বিতরণের ঘটনা ঘটে। তবে পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা পর বিষয়টি শিক্ষার্থীদের নজরে এলে একটু পরেই প্রশ্ন প্রত্যাহার করা হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের সময় দেড় ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব মতিন সরকারকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad