নওগাঁর নিয়ামতপুরে শিশুসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুর ২টার দিকে নওগাঁর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন, নিহত হাবিবুর রহমানের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসিলাম (৩০), তার ভাগনে সবুজ রানা (২০) ও শাহিন হোসেন। গ্রেপ্তার তিনজনেরই বাড়ি বাহাদুরপুর গ্রামে।
এর আগে, সোমবার মধ্যরাতে নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে হাবিবুর রহমান এবং তার পরিবারের বাকি তিন সদস্যকে গলা কেটে এবং মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, নিহত হাবিবুর রহমানরা ছয় ভাই-বোন। সম্প্রতি হাবিবুরের বাবা তার ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দেন। এর মধ্যে তার ১৭ বিঘা সম্পত্তির মধ্যে বসতবাড়িসহ ১৩ বিঘা সম্পত্তি ছেলে হাবিবুর রহমানকে লিখে দেন তিনি। বাকি সম্পত্তি তার পাঁচ মেয়েকে লিখে দেন। হাবিবুরকে বেশি সম্পত্তি লিখে দেওয়ায় বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগ্নেদের সাথে হাবিবুরের বিরোধ তৈরি হয়। বেশ কিছু দিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এটা নিয়ে গ্রাম্য সালিস বৈঠকও হয়।
জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে হাবিবুরের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম, তার ছেলে শাহিন ও হাবিবুরের আরেক বোন হালিমা খাতুনের ছেলে সবুজ রানা হাবিবকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।
সোমবার বিকালে হাবিবুর তার ভাগনে সবুজ রানাসহ উপজেলার ছাতড়া বাজারে গরু কিনতে যায়। পরে গরু না কিনেই বাড়ি ফেরার পর গ্রামের একটি মাঠে সবুজ রানা, শহিদুল, শাহিনসহ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছয়জন হাবিবুরকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী সোমবার রাত ৮টার দিকে হাবিবুরের বাড়িতে যান তারা। পরে সবাই একসঙ্গে খাবার খান। ওই সময় সবার অগোচরে হাবিবুরের আরেক ভাগ্নে শাহীন বাড়িতে ঢুকে একটি ঘরে লুকিয়ে থাকে এবং সবুজ খাবার খেয়ে বের হয়ে যায়। বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়লে শাহিন বাড়ির মূল দরজা খুলে সবুজ, শহিদুলসহ আরও পাঁচজনকে বাড়িতে ঢোকান।
তারা প্রথমে হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিনের ঘরে বাইরে থেকে শিকল তুলে দেয়। এরপর হাবিবুরের ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় ছুরি দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করে। তার স্ত্রী পপি সুলতানা দুই সন্তানকে নিয়ে পাশের ঘরে ছিলেন। হাবিবুরকে হত্যার সময় পপি বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হলে বাড়ির আঙিনায় তার মাথায় হাসুয়া দিয়ে আঘাতের পর তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকেও গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে এই দম্পতির দুই সন্তানকেও মাথায় আঘাত করে মারা হয়।
এসপি আরও জানান, মঙ্গলবার সকালে ঘটনা জানাজানি হলে সবুজ রানা, শহিদুল ও শাহিন হাবিবুরের বাড়িতে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার তদন্তে নেমে মঙ্গলবারই নিহতের ভাগ্নে সবুজ, তার বাবা নমির উদ্দিন, দুই বোন ডালিমা বেগম ও হালিমাসহ ছয় থেকে সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে হাবিবের ভাগ্নে সবুজ রানা পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রামের একটি খড়ের পালায় লুকানো অবস্থায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাসুয়া উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে বুধবার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়।
সব সম্পত্তির ভাগিদার হতেই পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন শহিদুল ও সবুজ রানা।


