ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে সংঘটিত সংঘর্ষে মোহন শেখ(৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ আরও অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। এলাকার কিছু বাড়িঘরে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
নিহত মোহন শেখ মাধবপুর গ্রামের মৃত মতলেব শেখের ছেলে। আহতদের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত আব্বাস শেখ নামের এক ব্যক্তিকে ফরিদপুর পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন ও জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। বুধবার সন্ধ্যার দিকে আবুল হোসেনের সমর্থকরা আবু জাহিদ চৌধুরীর এক সমর্থককে মারধর করে। এই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকালে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ১১ জন আহত হন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে আহতদের মধ্যে মোহন শেখকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাহিদ এমরান তন্নি বলেন, মোহন শেখকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। অন্য আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একজনকে ফরিদপুরে পাঠানো হয়েছে।
আবুল হোসেনের ছেলে ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব তরিকুল বাশার সাদাদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজন আবু জাহিদ গ্রুপের লোকজনকে উস্কানি দিয়ে সংঘর্ষ বাধিয়ে দিয়েছে। হতাহত সবাই বিএনপির নেতাকর্মী। সংঘর্ষের পরে আবু জাহিদ গ্রুপের লোকজন বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করছে। বাড়ি থেকে গরু নিয়ে চলে গেছে অনেকের।’
জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ চৌধুরী নিহত মোহন শেখ তার গ্রুপের কর্মী বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আরও অনেকেই গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমি তাদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত আছি।’
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, আধিপত্য বিস্তারের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় লুটপাট ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।


