সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার মিশনে শুরুতেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে বাংলাদেশ। শনিবার নেপালের পোখরা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ১২-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হাই-প্রেসিং ফুটবল আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ের মহড়ায় ভুটানকে পাত্তাই দেয়নি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে আক্রমণ সাজাতে থাকে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অধিকাংশ সময় খেলা হয়েছে ভুটানের রক্ষণভাগে। ম্যাচের ২৮ মিনিটে দেখা মেলে এক জাদুকরী মুহূর্তের। কর্নার থেকে সরাসরি মামোনি চাকমার নেওয়া শট সরাসরি জালে জড়ায়। অবিশ্বাস্য এই ‘অলিম্পিকো’ গোলটি ভুটানি গোলরক্ষক সোনম চোডেনকে হতভম্ব করে দেয়। এই এক গোলেই যেন আলগা হয়ে যায় ভুটানের রক্ষণভাগের বাঁধ।
ডান প্রান্তে গতি আর ড্রিবলিংয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেন সৌরভী আকন্দ প্রীতি। ৪৩ মিনিটে প্রীতির বাড়ানো বল থেকে কৃষ্ণা রানী ব্যবধান ২-০ করেন। এর ঠিক এক মিনিট পরেই মাঝমাঠ থেকে আলপি আক্তারের সহায়তায় মুঙ্কি আক্তার তৃতীয় গোলটি আনেন। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে মুঙ্কি নিজের দ্বিতীয় গোল করলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে কোচ পিটার বাটলার কৌশলী পরিবর্তন এনে প্রীতি ও ক্রানুচিং মারমাকে উঠিয়ে বন্যা ও মীরা খাতুনকে নামান। তবে গোল ক্ষুধা কমেনি বাংলাদেশের। ৫৪ মিনিটে কৃষ্ণা নিজের দ্বিতীয় ও ৬০ মিনিটে গোলরক্ষকের ভুলকে কাজে লাগিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ৭৩ মিনিটে স্কোরলাইন ৭-০ করেন আলপি আক্তার।
ম্যাচের শেষ দিকে যেন ঝোড়ো হাওয়া বইয়ে দেয় বাংলাদেশ। ৮১ মিনিটে মুঙ্কি নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ৪টি গোল করেন তিনি। ৮৬ মিনিটে আলপি আক্তার নিজের দ্বিতীয় গোলটি পান। নির্ধারিত সময়ের পর ইনজুরি সময়ে গোলবন্যা চলতেই থাকে। ৯২ মিনিটে মুঙ্কি তার চতুর্থ গোল এবং ৯৪ মিনিটে অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাসের দারুণ এক হেড স্কোরলাইন ১১-০ তে নিয়ে যায়। একেবারে শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে আলপি আক্তার নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ১২-০ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন।


