কোনো প্রতিযোগিতা না থাকায় দেশের প্রথম মোবাইল অপারেটর হিসেবে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ভিত্তিমূল্যে ১০ মেগাহার্টজ লো-ব্যান্ড স্পেকট্রাম পেয়েছে গ্রামীণফোন।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের স্পেকট্রাম নিলাম কমিটি এবং স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা কমিটির বুধবারের বৈঠকে প্রতি মেগাহার্টজে ২৩৭ কোটি টাকা ভিত্তিমূল্যে এই বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
নিলাম প্রক্রিয়ায় গ্রামীণফোন একমাত্র দরদাতা হিসেবে ছিল।
এর আগে রবি আজিয়াটা তাদের আবেদন প্রত্যাহার করে নেয় এবং বাংলালিংক বর্তমান ভিত্তিমূল্যে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে নিলামে অংশ নেয়নি।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের জারি করা সংশোধিত নিলাম নির্দেশিকা অনুযায়ী, একক দরদাতা সর্বোচ্চ ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম অর্জনের সুযোগ পায়।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল গ্রাহকভিত্তি থাকা সত্ত্বেও ব্যবহারকারীপ্রতি স্পেকট্রাম ধারণের ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী অপারেটরদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে গ্রামীণফোন। সে কারণে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের এই লো-ব্যান্ড স্পেকট্রাম অপারেটরটির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
লো-ব্যান্ড স্পেকট্রাম নেটওয়ার্কের অতিরিক্ত চাপ কমাতে, গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকায় কাভারেজ সম্প্রসারণে এবং ভবনের ভেতরে সিগন্যাল প্রবেশ সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বৃহৎ নেটওয়ার্কে প্রতি বিটের খরচ কমাতেও এই ব্যান্ড সহায়ক।
গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম অর্জনের যোগ্যতা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন থেকে একটি স্বীকৃতি পত্র পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি বলেন, ‘এই স্পেকট্রাম বরাদ্দের ফলে সেবা-বঞ্চিত ও ইনডোর এলাকায় নেটওয়ার্ক কাভারেজ উন্নত হবে, নেটওয়ার্কের দক্ষতা ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়বে এবং ৮৫ দশমিক ৬ কোটির বেশি গ্রাহকের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল সেবা প্রদানে সক্ষমতা আরও জোরদার হবে ‘
অন্যদিকে রবি আজিয়াটা ও বাংলালিংক আগেই কমিশনের কাছে পাঠানো চিঠিতে জানায়, বর্তমান ভিত্তিমূল্যে ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বাণিজ্যিকভাবে টেকসই নয়।
একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে উল্লেখ করে, একক প্রভাবশালী অপারেটরের কাছে এই লো-ব্যান্ড স্পেকট্রাম বরাদ্দ মোবাইল টেলিযোগাযোগ বাজারে প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


