সুপ্রিম কোর্টে শারীরিক উপস্থিতির চেয়ে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে শুনানি কমেছে প্রায় ৭৪ শতাংশ। শারীরিক উপস্থিতি ও ভার্চুয়ালি বিচার প্রক্রিয়ার ফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শারীরিক উপস্থিতিতে গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে মামলার শুনানি হয়েছে দুই হাজার ৬৭৭টি। অন্যদিকে ভার্চুয়ালি আদালত চালুর প্রথম দিনে বুধবার (২২ এপ্রিল) কেবল ৭০৭টি মামলার শুনানি হয়েছে।
অর্থাৎ একদিনেই বিচারের দুটি পদ্ধতির মধ্যে সংখ্যাগত পার্থক্য দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার। এতে শতকরা হিসাবে মামলার শুনানি কমেছে ৭৩ শতাংশেরও বেশি।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে বর্তমানে ৪৭ লাখের বেশি বিচারাধীন মামলা অর্ধকোটি ছাড়াতে বেশি দিন সময় লাগবে না। এতে বিচার প্রার্থীদের হয়রানি আরও বাড়তে থাকবে। ভার্চুয়াল পদ্ধতির বিচারের ফলে গুরুত্ব অনুযায়ী মামলার শুনানিও হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করছেন আইনজীবীরা।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘শারীরিক উপস্থিতিতে মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি বেশি হয়। করোনাকালে বিশেষ পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল আদালতের ব্যবস্থা থাকলেও এখন সেই অবস্থা নেই। বরং এই প্রক্রিয়ায় বিচার প্রার্থীদের হয়রানির সুযোগ বাড়বে, মামলা জটও কমবে না।’
আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার আপিল বিভাগের এক নম্বর আদালতে শারীরিক উপস্থিতিতে ৪১টি মামলার শুনানি হয়। সেদিন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ৬৬টি মামলার শুনানি হয়েছে। একইদিন হাইকোর্টে শুনানি হয়েছে দুই হাজার ৫৬৬ মামলার।
পরদিন বুধবার ভার্চুয়াল ব্যবস্থায় আপিল বিভাগে (চেম্বার আদালতসহ) ৯৫টি মামলা শুনানি হয়েছে। এর মধ্যে ২১টি নিষ্পত্তি হয়েছে। সেদিন হাইকোর্ট বিভাগে ৬১২টি মামলা শুনানি হয়েছে, এর মধ্যে ১৫৬টির নিষ্পত্তি হয়েছে। উভয় বিভাগে ৭০৭টি মামলার শুনানি হলেও মামলার নিষ্পত্তির সংখ্যা কেবল ১৭৭টি।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ ইয়াছিন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘মামলার দীর্ঘসূত্রিতা ও বিচারপ্রার্থীদের হয়রানির কথা বিবেচনা করে আদালত ব্যবস্থা ভার্চুয়ালি হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। কারণ করোনাকালে মানুষ ঘর থেকে বের হয়নি, আদালতেও নতুন মামলা কম এসেছে। ফলে ভার্চুয়ালি আদালত ব্যবস্থা সময়োপযোগী ছিল।’
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘শারীরিক উপস্থিতিতে শুনানির সময় মামলার আবেদনে সাধারণ ত্রুটি থাকলেও তা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা যায়, কিন্তু ভার্চুয়াল আদালতে তা সম্ভব হয় না। একটি শব্দের ভুলের কারণেও মামলার শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়।’
গত ২০ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে ভার্চুয়ালি শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার প্রথম দিন ভার্চুয়ালি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে ভার্চুয়াল আদালত ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করে গত তিন দিন ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন আইনজীবীরা।


