ভারতে সাবেক সেনা কর্মকর্তার বাসায় ডাকাতি, চার বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

ভারতে সাবেক সেনা কর্মকর্তার বাসায় ডাকাতি, চার বাংলাদেশি গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার হিলাল, মামো খান, মোহাম্মদ খায়রুল ওরফে আরমান এবং মোহাম্মদ মামান।
Advertisement
Advertisement

ভারতের গুরগাঁওয়ে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তার বাসায় ডাকাতির ঘটনায় চার বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার এড়াতে ধাওয়া খেয়ে একটি আন্ডারপাসে লাফ দিয়েছিল। এতে তাদের কয়েকজনের হাত ও পায়ে হাড় ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হিলাল, মামো খান, মোহাম্মদ খায়রুল ওরফে আরমান এবং মোহাম্মদ মামান। গুরগাঁও পুলিশের পালাম বিহার ক্রাইম ব্রাঞ্চ দ্বারকা সড়কের বাজঘেরা আন্ডারপাস এলাকা থেকে তাদের আটক করে।

পুলিশ জানায়, গত ৪ জুন ভোরে গুরগাঁওয়ের অভিজাত সেক্টর-২৩ এলাকায় অবস্থিত অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্নেলের বাসায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা পেছনের জানালার গ্রিল কেটে বাড়িতে প্রবেশ করে।

তারা সেনা কর্মকর্তার পুত্রবধূ ও নাতনিকে জিম্মি করে স্বর্ণ ও হীরার গয়না, নগদ অর্থ এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পালিয়ে যাওয়ার আগে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতিও দেখানো হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে পালাম বিহার থানা পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার চারজন ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সংঘটিত দুই ডজনেরও বেশি অপরাধ মামলার সঙ্গে জড়িত।

আরও পড়ুন

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করে অপরাধ সংঘটিত করত এবং পরে আবার বাংলাদেশে ফিরে যেত, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা না পড়ে।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, হিলালের বিরুদ্ধে দিল্লিতে চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা এবং অস্ত্র আইনে ১২টি মামলা রয়েছে। মামো খানের বিরুদ্ধে দিল্লিতে একটি চুরির মামলা রয়েছে।

খায়রুল ওরফে আরমানের বিরুদ্ধে হরিয়ানা, দিল্লি ও উত্তর প্রদেশে চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা, হত্যা এবং গ্যাংস্টার সংশ্লিষ্ট আটটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে মামানের বিরুদ্ধে গুরগাঁও ও দিল্লিতে তিনটি অনুরূপ মামলা রয়েছে।

সহকারী পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) নবীন শর্মা বলেন, অভিযুক্তরা প্রথমে ধনী পরিবারের বাড়িগুলো চিহ্নিত করত, এরপর সেগুলোকে ডাকাতির লক্ষ্যবস্তু বানাত।

তার দাবি, “তারা বাংলাদেশের বাসিন্দা। অপরাধ সংঘটনের জন্য ভারতে আসত এবং কাজ শেষ করে ফিরে যেত। সর্বশেষ ডাকাতির পরও তাদের বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে তার আগেই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।”

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য অপরাধ এবং অনুরূপ ঘটনার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad