টেবিলে রাখা মাইক্রোফোনের সামনে খানিকটা নড়েচড়ে বসলেন সাঈদ খোদারাহমি। ইংরেজিটা খুব একটা পোক্ত নয়, ভাঙা ভাঙা শব্দে মনের ভাব প্রকাশ করতে হয় তাকে। কিন্তু দল নির্বাচন ও নিজের স্বচ্ছতার প্রশ্নে তার কণ্ঠস্বর ছিল অসম্ভব দৃঢ়। বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দলের এই ইরানি কোচ পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, খেলোয়াড় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি কোনো ‘তদবির’ বা ‘বড় নাম’ তোয়াক্কা করেন না। তার কাছে জবাবদিহিতা কেবল নিজের বিবেকের কাছে।
আসন্ন টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে নারী দলের প্রস্তুতি ও খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই বেশ খোলামেলা উত্তর দিলেন খোদারাতেমি। জাতীয় দলে খেলা অভিজ্ঞ ফুটবলারদের ফুটসাল দলে অন্তর্ভুক্তি এবং তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল তাঁর কাছে। জবাবে কোচ স্পষ্ট করলেন, মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরে তিনি কিছুই দেখেন না।
সাঈদের ভাষায়, ‘দলে কে বড় নাম, সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কেবল আল্লাহ। দল নির্বাচনে আমি যদি কোনো ভুল করি, তবে আমাকে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। এটা আমার জীবন, এখানে অন্য কারো দয়ায় আমি চলি না।’
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিজের স্বচ্ছতার উদাহরণ দিতে গিয়ে বাফুফের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। কিছুটা উত্তেজিত হয়েই বললেন, ‘এমনকি ভাইস প্রেসিডেন্টও যদি এসে বলেন, একে খেলাও, ও ভালো খেলছে, আমি মানব না। কারণ সিদ্ধান্তটা আমার।’
এই কঠোর অবস্থানের কারণে ফুটসাল কমটির প্রেসিডেন্ট ইমরানের সঙ্গেও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল তার। সংবাদ সম্মেলনে অকপটেই স্বীকার করলেন সেই ‘লড়াই’-এর কথা। সাঈদ বলেন, ‘খেলোয়াড় সিলেকশন নিয়ে মিস্টার ইমরানের সঙ্গে অনেক মিটিং করেছি। একপর্যায়ে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়। আমি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলাম, সিলেকশন নিয়ে জোরজবরদস্তি করলে আমি এক টিকিট কেটে নিজের দেশে ফেরত যাব, কিন্তু এখানে থাকব না।’
তবে বাস্তবতাকে অস্বীকার করছেন না কোচ। নারী ফুটবলারদের ফুটসালে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জটা তিনি ভালোই বোঝেন। সাঈদের মতে, যারা ১৫ বছর ধরে মূল ধারার ফুটবল (ইলেভেন এ সাইড) খেলে আসছেন, মাত্র এক মাসের ক্যাম্পে তাদের মানসিকতা ও খেলার ধরন বদলে ফেলা কঠিন। ফুটসাল ও ফুটবলের ব্যাকরণ যে ভিন্ন, সেটি বারবার মনে করিয়ে দিলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে ফুটসাল ও ফুটবলের খেলোয়াড় আলাদা হতে হবে। অনূর্ধ্ব-১৭, ১৮ বা ১৯ পর্যায় থেকে আলাদাভাবে ফুটসাল খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। কারণ ১৫ বছরের অভ্যাস এক মাসে বদলানো যায় না। এটা কাঁচা কাজ হয়ে যায়।’
অন্যান্য দেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত, মালদ্বীপ কিংবা নেপালের মতো দেশগুলোও মূলত ফুটবলারদের দিয়েই ফুটসাল দল সাজাচ্ছে। তাই প্রস্তুতির ঘাটতি থাকলেও নিজের ও সহকারী কোচদের প্রচেষ্টার ওপর শতভাগ আস্থা রাখছেন সাঈদ খোদারাহমি। ভাঙা ইংরেজিতেই প্রতিশ্রুতি দিলেন, ‘আমরা শতভাগ চেষ্টা করছি। আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখুন।’


