জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রথম নিহত আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় যে কোনো দিন ঘোষণা করা হবে।
উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে। এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, আবদুস সোবহান তরফদার ও শেখ মইনুল করিম। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন পর্বে প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেও আসামিপক্ষ খালাস দাবি করেছে।
আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো, আজিজুর রহমান দুলু ও সালাউদ্দিন রিগ্যান। এই মামলায় রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ ছয়জন বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ২৪ জন এখনো পলাতক।
প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। কারাগারে থাকা আসামিরা হলেন এএসআই আমির হোসেন, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ। আসামিপক্ষে কোনো সাক্ষী নেই।
আদালত সূত্র জানায়, পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা মামলার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় গত বছরের ৬ আগস্ট। সেদিন ট্রাইব্যুনাল ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। তার আগে ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় এবং ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশন সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে।
কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ শহীদ হন। তারপরই বেগবান হয় সরকার পতনের আন্দোলন।


