বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ও হল ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচন স্থগিতের ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা চলছে ছাত্রদল, ছাত্র সমন্বয়ক এবং ছাত্র শিবিরদের মধ্যে। ভিসি অফিস ঘেরাও করে স্থগিতাদেশ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভও করেছে তারা।
সোমবার সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ভোটার তালিকার ভুল সংশোধন ও অন্যান্য অসংগতি দূর না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেয় কমিশন।
এই ঘোষণার পরই ছাত্রদল সমর্থন জানালেও, ছাত্র সমন্বয়ক ও ছাত্র শিবির সমর্থিত বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ জানায়। এরপর থেকেই পরস্পরবিরোধী অবস্থান নেয় ছাত্রদল ও ছাত্র সমন্বয়করা।
সাবেক ছাত্র সমন্বয়ক এবং বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদের নেতারা প্রশাসনিক ভবনের চতুর্থ তলায় নির্বাচন অফিসের বাইরে তালা লাগানোর ঘোষণা দেয়। এ সময় সেখানে তালা লাগানোর চেষ্টা করলে, ছাত্রদল প্রতিবাদ জানায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তারা তুমুল হট্টগোলে জড়িয়ে পড়েন।
ছাত্র সমন্বয়ক খোকন ও আশিকের সাথে তুমুল বিতর্কে জড়ান ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটির সহ সভাপতি তুহিন রানাসহ অন্যান্যরা। এর প্রায় ঘণ্টাখানেক পর ছাত্র সমন্বয়ক শিক্ষার্থী পরিষদের নেতারা ভিসির অফিস রুমের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে রাতের মধ্যেই সামান্য যে ভুলত্রুটি আছে সেগুলো সমাধান করে নির্বাচন চালু রাখার দাবি জানান।
সাবেক ছাত্র সমন্বয়ক স্বতন্ত্র এজিএস প্রার্থী শামসুর রহমান সুমন জানান, ‘প্রশাসন ছাত্রদলকে সন্তুষ্ট করতে নাটক বানিয়ে নির্বাচন বানচালের জন্য তা স্থগিত করেছে। এটা আমরা মানি না। ভোটার তালিকায় সামান্য যে ভুলত্রুটি আছে সেগুলো রাতের মধ্যেই সমাধান করে কাল থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলমান রাখতে হবে। তা না হলে তাদের আন্দোলন চলবে।’
সাবেক সমন্বয়ক ও বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদের প্রার্থী আহমেদুল আল বীর জানান, এটা প্রশাসনের নতুন তামাশা। রাতেই স্থগিতাদেশ তুলতে হবে। যে ভুল আছে সেটা এক ঘণ্টার মধ্যেই সমাধান করা সম্ভব।
ছাত্রদল সভাপতি ইয়ামিন জানান, যেহেতু ভোটার তালিকায় ভুল আছে। সেকারণে সেটি সমাধান করে শীতকালীন ছুটির পরেই নির্বাচন হলে ভালো হয়। যারা আন্দোলন করছে তারা ক্যাম্পাসের ভালো চায় না।
এর আগে সন্ধ্যায়, নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেন নির্বাচন কমিশনার ড. মোহসীনা আহসান। কারণ হিসেবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা হালনাগাদ না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আনেন তিনি। এর মাধ্যমে কমিশনকে হেয় প্রতিপন্ন করার পরিকল্পনা ছিল কিনা সেটিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. মো: শাহজামানসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থগিতের ঘোষণাকে দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলছেন ভিসি অধ্যাপক শওকাত আলী। তিনি বলেন, সঠিক তথ্য সরবরাহ করার পরও যদি কোনো ভুল থাকে তাহলে সেটি ঠিক করার দায়িত্বও কমিশনের। এ সময় তিনি কমিশনকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।


