ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন।
তিনি বলেন, মামলার এজাহারে লেখা হয়েছে কুরুচিপূর্ণ অশ্লীল মন্তব্য। তিনি শুধু নিজের কথা বলেননি, সঙ্গে আরও দুইজন ডাকসু নেত্রীর কথা বলেছেন। অথচ ওই দুই নেত্রী মামলা করতে যাননি। বর্তমানে নারীদের বিরুদ্ধে অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হলেও সাদিক কায়েম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, ভীতি তৈরি করতে মামলা করতে গেছেন।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক কোয়ালিশন ও ফেসবুক পেইজ ‘ইআরকি’ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন সারা হোসেন।
স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মামলা না করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিবির কাছে যাওয়ারও সমালোচনা করেন সারা হোসেন। তিনি বলেন, ‘সাদিক কায়েমের মামলা কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়। কেন তাদের বাড়তি সুযোগগুলো দেওয়া হচ্ছে?’
দেশের কার্টুনিস্টদের হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয় মন্তব্য করে সারা হোসেন বলেন, ‘একটা মানুষ কার্টুন আকলে, মিম বানালে তার নামে মামলা দেওয়া ও জেলে পাঠানোর প্র্যাক্টিস থেকে আমাদের বের হতে হবে। শুধু নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র সম্ভব হয় না। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মানুষের মতামতকে সম্মান করতে হয়।’
ডাকসু ভিপির করা মামলার নিন্দা জানিয়ে কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব বলেন, ‘হিউমার এবং স্যাটায়ার বোঝার ক্ষেত্রে বর্তমানের তরুন প্রজন্ম অনেক শার্প। বর্তমানের কার্টুনিস্টরাও ভালো কাজ করছেন। কিন্তু স্যাটায়ার করায় পেজগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়াটা ঠিক হয়নি। আমার ৪৮ বছর বয়সী সাময়িকী উন্মাদ পত্রিকার নামে এক কোটি টাকার মামলা হয়েছিল। পরে আমি গিয়ে মামলাকারীকে আমার কার্টুনটি বুঝাই। এরপরে তিনি মামলা তুলে নেন।’
আলোকচিত্রী শহীদুল আলম বলেন, ‘একটা সমাজে পরিবর্তন তখনই আসে যখন মানুষ ক্ষমতাবানদের প্রশ্ন করতে পারে। ক্ষমতাবানদের জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হয়। তবে দুঃখজনক আমরা এই সংস্কৃতি থেকে অনেক দূরে আছি। বর্তমানে যারা সব থেকে ক্ষমতাবান রয়েছেন তাদের আরও উদার হওয়া উচিৎ।’
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও লেখক সুমন রহমান, লেখক ও সংগঠক ফিরোজ আহমেদ, মিম গবেষক সৈয়দ ফায়েজ আহমেদ, রাজনীতিবিদ সৈয়দ হাসিবউদ্দিন হোসেন, স্যাটায়ারিস্ট সিমু নাসের এবং অ্যাক্টিভিস্ট প্রাপ্তি তাপসী।


