ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন এবং সম্পত্তির নামজারির ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করেছে জাতীয় সংসদ। একই সঙ্গে অর্থ আইনের মাধ্যমে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর সংক্রান্ত (বিআইএন) বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদ ৬৪টি সংশোধনীসহ অর্থ বিল পাস করে প্রস্তাবিত বাজেটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান পরিবর্তন করে।
সরকার ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন এবং সম্পত্তির নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব থেকে সরে আসে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড করভিত্তি সম্প্রসারণ ও করদাতা শনাক্তকরণ জোরদারের লক্ষ্যে এ প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ব্যবসায়ী, কর বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ ছিল, দৈনন্দিন ব্যাংকিং ও সম্পত্তিসংক্রান্ত সেবায় টিআইএন বাধ্যতামূলক করলে করযোগ্য আয় নেই–এমন লাখো মানুষ অপ্রয়োজনীয় ঝামেলায় পড়বেন।
প্রস্তাব প্রত্যাহারের ফলে এ ধরনের মানুষ বাধ্যতামূলক কর নিবন্ধনের বাইরে থাকবেন। তবে যাদের জন্য টিআইএন আগে থেকেই বাধ্যতামূলক, তাদের বিদ্যমান বাধ্যবাধকতায় কোনো পরিবর্তন হয়নি।
অন্যদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে চলতি ও স্বল্পমেয়াদি আমানত হিসাব খোলা ও পরিচালনা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ নেওয়া, মোবাইল আর্থিক সেবায় মার্চেন্ট হিসাব খোলা, বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ বা নবায়ন এবং প্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিআইএন বা ভ্যাট নিবন্ধনের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অর্থ আইন পরোক্ষ কর প্রয়োগও জোরদার করেছে। উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, সরবরাহকারী, পরিবেশক ও আড়তদারদের খুচরা বিক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রির সময় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর উৎসে সংগ্রহ করতে হবে। তা সংগ্রহে ব্যর্থ হলে সমপরিমাণ অর্থ তাদেরই পরিশোধ করতে হবে।
এ ছাড়া, ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রতি কর মেয়াদের পরিবর্তে প্রতি তিনটি কর মেয়াদ শেষে একবার ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।


