চট্টগ্রাম মহানগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ব্যবসায়ীর বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনার জেরে বিশেষ অভিযানে নেমেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
রোববার রাতে নগরের ১০টি পয়েন্টে একযোগে এই ‘এস ড্রাইভ’ বা বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।
রাত সাড়ে ১১টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় সিএমপি।
এর আগে, শনিবার সকালে স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই অপরাধীদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়।
সিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এরই মধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের সম্ভাব্য আস্তানাগুলোতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
অভিযান সম্পর্কে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা নগরবাসীদের কাছ থেকে এই আস্থা অর্জন করতে চাই যে পুলিশ সার্বক্ষণিক তাদের পাশে আছে। আপনারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কোনো কারণ নেই, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি আরও জানান, জনসাধারণের মধ্যে নিরাপত্তার বোধ ফিরিয়ে আনাই এই অভিযানের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অপরাধীরা বর্তমানে চট্টগ্রাম শহরের বাইরে পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শহরের ভেতর তাদের সম্ভাব্য সব আস্তানায় ১০টি বিশেষ টিম একযোগে তল্লাশি শুরু করেছে।
নগরের প্রতিটি প্রবেশপথে কঠোর চেকপোস্ট বসানো হয়েছে যাতে কোনো অস্ত্র শহরে প্রবেশ করতে না পারে।
ব্যবসায়ীর বাসায় ব্যবহৃত আধুনিক অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে পুলিশের ধারণা, এগুলো পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হতে পারে অথবা কোনোভাবে পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র হতে পারে।
তবে তদন্তের স্বার্থে এবং আসামিদের গ্রেফতারের সুবিধার্থে এখনই তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হয়নি পুলিশ।
সিএমপি জানিয়েছে, এই বিশেষ অভিযান বা ‘এস ড্রাইভ’ নিয়মিতভাবে চলবে যতক্ষণ না অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে। অপরাধীদের ধরতে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা দলও মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ ও ডিসি (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া।


