সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে ভার্চ্যুয়াল কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত থেকে অবশেষে পিছু হটলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
ভার্চ্যুয়াল আদালত ব্যবস্থা চালুর সময় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা উল্লেখ করলেও, কী কারণে এই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হলো, বিজ্ঞপ্তিতে সেটি জানানো হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে (আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ) পরিচালিত ভার্চ্যুয়াল আদালতের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হলো।
এর আগে রোববার ‘ভার্চ্যুয়াল হিয়ারিংস প্রডিউসিং অপোজিট আউটকাম?’ শিরোনামে ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সপ্তাহের দুটি কার্যদিবসে সুপ্রিম কোর্টে ভার্চ্যুয়াল আদালত ব্যবস্থা চালু করা হলেও বাস্তবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। শারীরিক উপস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম চললে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার হয়, ভার্চ্যুয়াল আদালত ব্যবস্থায় খরচ হয় এর চেয়ে বেশি।
যেমন, শারীরিক উপস্থিতিতে মামলার শুনানিতে বিচারকক্ষে বিচারক, বেঞ্চ অফিসার ও মামলা সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বসেন। এতে মামলা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একটি কক্ষে থাকায় সেখানেই বিদ্যুতের ব্যবহার হয়।
অন্যদিকে, ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে বিচারের সময় আইনজীবী ও বিচারকরা একাধিক পৃথক কক্ষ ও স্থানে অবস্থান নেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ অফিসাররা বসেন বিচারকক্ষে। প্রতিটি কক্ষ ও স্থানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র, বৈদ্যুতিক বাতি ও ফ্যান চলে। ফলে সাশ্রয় করতে গিয়ে আরও বেশি অপচয় হয়। ভার্চ্যুয়াল আদালত চলাকালে ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের ছয়টি বেঞ্চ সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে খোঁজ নিয়ে এই চিত্র পাওয়া যায়।
এই সংবাদ প্রকাশের পরই রোববার দুপুরে প্রথমে আপিল বিভাগ, পরে বিকালে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে পরিচালিত ভার্চ্যুয়াল আদালত ব্যবস্থা স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসে।
এর আগে, গত ২০ এপ্রিলের নোটিশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার ভার্চ্যুয়াল আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এরপর থেকে ভার্চ্যুয়াল আদালত ব্যবস্থা প্রত্যাহারের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা কয়েকদফা প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।


