ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ভবিষ্যৎ সরকারের বৈদেশিক নীতির মূলভিত্তি তুলে ধরেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ঘোষণা দেন, তার সরকারের কূটনৈতিক নীতির প্রধান স্তম্ভ হবে, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ সবার আগে।’
শনিবার বিকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বিদেশি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান জানান, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে জনগণের সরাসরি ভোটে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির বৈদেশিক নীতি হবে বহুমুখী রাষ্ট্র-কেন্দ্রিক। যেখানে কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীলতা নয় বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমান অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখবে এবং অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে অটল থাকবে।’
ভারত, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখাসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান স্পষ্ট করেন, তার সরকার কোনো বিশেষ দেশ-কেন্দ্রিক নীতি অনুসরণ করবে না। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে।’ বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সম্পর্কের উন্নয়ন ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের আকাঙ্ক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’
তিনি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ব্যক্ত করেন, যেখানে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক হবে মর্যাদাপূর্ণ ।
বিগত আমলের ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং অকার্যকর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো এদেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে পাশে দাঁড়াবে।’
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’


