বেক্সিমকো টেক্সটাইল ডিভিশন লিজ নিয়ে পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে জাপান–বাংলাদেশ নৈতিক ফ্যাশন ও সাস্টেইনেবিলিটি উদ্যোগ রিভাইভাল গ্রুপ কো. লিমিটেড ও রিভাইভাল প্রজেক্ট লিমিটেড। একে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এতে ২৫ হাজারের বেশি শ্রমিক আবার কাজে ফিরতে পারবেন। প্রবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) পেশাজীবীদের প্রতিষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অর্থায়ন সহযোগী ইকোমিলি এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাছে শেয়ার করা নথি ও একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।
দেশের পোশাক খাতের একসময়কার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো টেক্সটাইল বহু বছর ধরেই অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। ঋণ খেলাপির কারণে কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেলে হাজারো শ্রমিক চাকরি হারান এবং স্থানীয় অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়ে।
রিভাইভাল এই কারখানার কাজ নতুন করে শুরু করতে মূল ব্যবস্থাপনা দলকে ফিরিয়ে আনা এবং পুরো কর্মীবাহিনী পুনর্বহালের পরিকল্পনা করেছে। জাপান–বাংলাদেশের যৌথ এ প্রতিষ্ঠানটি জাপান থেকে সিনিয়র কর্মকর্তাদের এনে জাপানি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করবে। তাছাড়া গ্লোবাল বিগ ফোর অ্যাকাউন্টিং প্রতিষ্ঠান সেখানে আন্তর্জাতিক মানের সুশাসন নিশ্চিত করবে।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কেবল পুনরায় উৎপাদন চালুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ‘ডিজাইন লোকালি, সেল গ্লোবালি’ দর্শন নিয়ে বেক্সিমকো টেক্সটাইলকে আবার বৈশ্বিক ক্রেতাদের সঙ্গে যুক্ত করা এবং নতুন অংশীদার তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। তরুণ ডিজাইনার ও শিল্প পেশাজীবীদের জন্য সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রশিক্ষকদের নিয়ে একটি বিশেষ ডিজাইন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে রিভাইভালের।
বেক্সিমকো টেক্সটাইল চালুর প্রস্তুতি দ্রুত এগোচ্ছে। রিভাইভাল প্রজেক্টস লিমিটেড, বেক্সিমকো ও জনতা ব্যাংকের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির খসড়া ৮ অক্টোবর জমা দেওয়া হয়েছে। জনতা ব্যাংকের বোর্ড আগামী মঙ্গলবার এটি পর্যালোচনা করবে। সংশ্লিষ্টরা চলতি মাসের মধ্যেই তাতে সইয়ের আশা করছেন। রিভাইভাল ও ইকোমিলির শীর্ষ প্রতিনিধিরা নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য ঢাকায় আসবেন।
রিভাইভালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুদা মোহাম্মদ ফয়সাল বলেছেন, ‘এটা শুধু কারখানা চালু করা নয়—হাজারো পরিবারের মর্যাদা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ।’
ইকোমিলির প্রেসিডেন্ট ফারহান এস করিম বলেছেন, ‘এটি ব্রেইন গেইনের গল্প, যেখানে আমরা দেশের শিল্পকে নতুন প্রাণ দিতে চাই।’
বেক্সিমকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী বলেছেন, সরকারের নির্দেশে বন্ধ হওয়ার আগেও তারা ৪২ হাজার কর্মীর চাকরি রক্ষা এবং প্রতি মাসে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ধরে রেখেছিলেন। রিভাইভাল ও ইকোমিলি প্রথম ধাপে ২০ মিলিয়ন ডলার ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সহায়তা দেবে, যা প্রয়োজনে পাঁচগুণ পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।
প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে ২০২৭ সালের মধ্যে বছরে ৫০০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন সম্ভব হবে। জাপানের শৃঙ্খলা, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা এবং বাংলাদেশের শ্রমিকদের দৃঢ়তায় বেক্সিমকো টেক্সটাইলের পুনর্জাগরণ দেশের শিল্পখাতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


