বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক স্লোগানকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা অরাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী।
বুধবার রাতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ আয়োজিত এক বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী তারাবির নামাজ আদায়ের জন্য বুয়েট মসজিদে যান। নামাজ শেষে তার সঙ্গে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজনৈতিক চরিত্রের পরিপন্থী।
বক্তারা আরও বলেন, মসজিদ সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় যে কেউ সেখানে নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে নামাজ শেষে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া ক্যাম্পাসের পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, অতীতে সহিংস ছাত্ররাজনীতির কারণে প্রাণ হারাতে হয়েছে আবরার ফাহাদ ও সাবেকুন্নাহার সনির মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ক্যাম্পাস রাজনীতিমুক্ত রাখার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
বুয়েটের শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের একমাত্র পরিচয় হওয়া উচিত শিক্ষার্থী, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়। তাদের মতে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের নিরাপদ ক্ষেত্র, রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ব্যবহার করে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষুণ্ণ করতে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেন। ভবিষ্যতেও ক্যাম্পাসে যেকোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করবেন বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে নিজের ফেসবুক পোস্টে নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন, তিনি কয়েকজন শিক্ষার্থীর আমন্ত্রণে বুয়েটে তারাবির নামাজ আদায় করতে যান এবং শুরুতেই তাকে জানানো হয় অরাজনৈতিক ক্যাম্পাসে কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না। তিনি লেখেন, বিষয়টি তিনি সঙ্গে সঙ্গে মেনে নেন এবং শুধু নামাজ আদায় করে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নামাজ শেষে বের হওয়ার সময়ও তাকে কোনো বক্তব্য না দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় এবং মিডিয়া ব্রিফিং না করার অনুরোধ জানানো হয়, যা তিনি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি কেবল আবরার ফাহাদ ও নিহত সেনা কর্মকর্তাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন বলে দাবি করেন।
পাটওয়ারী আরও বলেন, পরে পলাশীতে গিয়ে তিনি প্রেস ব্রিফিং করেন। সে সময় কয়েকজন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিলে তিনি নিজেই তাদের থামিয়ে দেন। তিনি লিখেছেন, অরাজনৈতিক বুয়েটের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন এবং তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেটি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হলে সেটিকেও স্বাগত জানাবেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।


