অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের নৃত্য পরিচালক জাকির হোসেন ভালো নেই। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক এই নেতা এখন লড়ছেন দুরারোগ্য ক্যানসারের সঙ্গে। হাসপাতাল আর বাসার মধ্যে চলতে থাকা জীবনে ভেঙে পড়া শরীরে তাকে প্রতি ১৪ দিন পরপর নিতে হচ্ছে কেমোথেরাপি। তবুও মিলছে না আশানুরূপ উন্নতি; বরং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে ধীরে ধীরে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে চিকিৎসকেরা তার শরীরে ক্যানসার শনাক্ত করেন। এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রথম চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রাথমিকভাবে পেপটিক আলসারের সন্দেহ করা হয় এবং সে অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরবর্তী পরীক্ষা—এন্ডোস্কোপি ও বায়োপসিতে—পেটে টিউমার ধরা পড়ে, যার ভেতরে ক্যানসার কোষের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
চিকিৎসকের পরামর্শে প্রথমে টিউমার অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরে জানা যায়, অস্ত্রোপচারের জন্য তিনি উপযুক্ত নন। কারণ তার পেটে ইতোমধ্যে পানি জমেছে। সে কারণে বিকল্প হিসেবে কেমোথেরাপি শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাকির হোসেন জানান, মোট ১২টি কেমোথেরাপি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫টি সম্পন্ন করেছেন তিনি। তবে চিকিৎসা চললেও শারীরিক উন্নতি তেমন চোখে পড়ছে না।
উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই কোরিওগ্রাফার। দীর্ঘদিন কাজের বাইরে থাকায় চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে তাকে আর্থিক চাপে পড়তে হয়েছে। বর্তমানে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক খরচ বহন করছেন ভাই-বোনেরা। এই পরিস্থিতিতে তার পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠজনেরা। সরকারি সহায়তা পাওয়ার জন্যও আবেদন করেছেন তিনি।
জাকির হোসেনের চিকিৎসার সহায়তায় তার সহকর্মী ও বন্ধুরা একটি ফান্ড গঠন করেছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই সেখানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি তথ্য মন্ত্রণালয়েও সহায়তার আবেদন করা হয়েছে।


