প্রাচীন জেলা ও বিভাগীয় নগরী হওয়ার পরেও ময়মনসিংহে নেই কোনো বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হলেও গত ২০ মাস ধরে তা রহস্যজনকভাবে বন্ধ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের ১৬ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বর্তমানে নির্মাণাধীন ভবনের রডগুলোতে মরিচা ধরছে আর যত্রতত্র ছড়িয়ে আছে নির্মাণ সামগ্রী। এমন পরিস্থিতিতে বৃহত্তর ময়মনসিংহের কয়েক কোটি মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও হতাশা।
গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর মধ্যবাড়েরা বাইপাস এলাকায় ৩ একর জমিতে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সেবছর ১২ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার পর দ্রুত গতিতে নির্মাণ শুরু হলেও ২০২৪ সালের ৩০ জুনের পর অর্থ বরাদ্দ না থাকায় কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পে ১০ তলা ভিতের ওপর দ্বিতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। ৩০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটি টাকার কাজ শেষ হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে হাসপাতালটি চালুর কথা থাকলেও বর্তমানে ভবন নির্মাণ কাজ মাঝপথে থমকে আছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম জানান, বর্তমানে এই হাসপাতালের শিশু বিভাগে মাত্র ৬০টি শয্যার বিপরীতে ৪৪৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। সীমিত জনবল নিয়ে ধারণক্ষমতার আটগুণ বেশি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। করিডোর ও বারান্দার মেঝেতে গাদাগাদি করে শিশুদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত শিশু হাসপাতালটি চালু হওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ইফতেখার আলম জানান, ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অর্থ বরাদ্দের অভাবে কাজ বন্ধ থাকলেও এক মাস আগে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বর্তমানে ৩০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। ঠিকাদার বাছাই শেষে কার্যাদেশ দেওয়া হলে দ্রুতই কাজ শুরু হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম এস এন্টারপ্রাইজের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. খাইরুল ইসলাম সোহেল বলেন, জমি অধিগ্রহণ ও নকশা পেতে দেরি হওয়ায় শুরুতেই কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে আগের টেন্ডারটি বাতিল হয়। এখন নতুন প্রস্তাবনায় মাটি ভরাট ও সীমানা প্রাচীরসহ পূর্ণাঙ্গ দ্বিতল ভবন নির্মাণে আরও ৩১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। নতুন করে কার্যাদেশ পেলে তারা দ্রুত কাজ শুরু করতে প্রস্তুত আছেন।
ময়মনসিংহ নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব শামসুদ্দোহা মাসুম এই বিলম্বের সমালোচনা করে বলেন, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি চালু হলে কেবল ময়মনসিংহ নয়, বরং শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গ ও গাজীপুর-সুনামগঞ্জের রোগীরাও উপকৃত হতো। কিন্তু নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় জনমনে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে।
অবিলম্বে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে নির্মাণকাজ শেষ করে হাসপাতালটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


