জাতীয় সংসদের চিফ হুইপকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হাসান নাসিমকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুল্লাহ পিয়াস এই আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রায়হানুর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন জানান। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন আবেদন নাকচ করে হাসান নাসিমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং রোববার জামিন শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
আদালত প্রাঙ্গণে হাসান নাসিম সাংবাদিকদের কাছে নিজের নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তারের পর ডিবির কার্যালয়ে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে শেরেবাংলা নগর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিকে নিয়ে ফেসবুকে একটি বিদ্রূপাত্মক পোস্ট করেন হাসান নাসিম। ‘সাগর থেকে ৩টা তিমি মাছ নিয়ে এসেছি, ২টা হাঙর আসতেছে ইনশাআল্লাহ, সবার দাওয়াত: চিফ হুইপ’—এমন ক্যাপশনে পোস্ট করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে চিফ হুইপের ব্যক্তিগত নম্বরে স্ক্রিনশট পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টাও করা হয়। এই ঘটনায় চিফ হুইপের অনুসারী মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে গুলশান থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
হাসান নাসিম বরগুনার পাথরঘাটা এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশাগতভাবে একজন কনসালটেন্ট এবং ‘পাথরঘাটা ডট কম’ নামক ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন হিসেবে পরিচিত, যেখানে তিনি স্থানীয় নানা সমস্যা ও অসংগতি নিয়ে লেখালেখি করেন।


