অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সংগত পানি অধিকার, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিমূলক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের প্রত্যয় নিয়ে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে দুদিনের আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন।
বুধবার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের আয়োজনে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হবে এই সম্মেলনের একাদশ আসর। এতে অংশ নেবেন বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের পাঁচ শতাধিক নদী বিশেষজ্ঞ, গবেষক, নীতিনির্ধারক, পানি অধিকার কর্মী এবং জলবায়ু সুরক্ষা কর্মী।
এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়- ‘ন্যায়সংগত ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য পানি ব্যবস্থাপনা পুনর্চিন্তা’।
২০২৫ সালেই বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে ‘জাতিসংঘ পানি কনভেনশনে’ যোগ দিয়েছে। ফলে এবারের সম্মেলন বাংলাদেশের জন্যও দারুণ গুরুত্বপূর্ণ।
এবারের সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য হলো-জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার করা, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
এছাড়া জলবায়ু সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনায় গবেষণা ও উদ্ভাবন উৎসাহিত করা এবং ওয়াটার মিউজিয়াম বা পানি জাদুঘরের মাধ্যমে শিক্ষা ও সংস্কৃতির ভূমিকা তুলে ধরাও এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সম্মেলন শেষে একটি ‘নীতিপত্র’ প্রণয়ন করা হবে, যা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী ভূমিকা রাখবে।
সম্মেলনের প্রথম দিন উদ্বোধনী অধিবেশনে দক্ষিণ এশিয়ায় পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতিফলন এবং ‘জাতিসংঘ পানি কনভেনশন’ নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর ‘জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পানি ন্যায়বিচার’ এবং ‘শহর ও পানির ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক দুটি বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিন বাংলাদেশ ও এশিয়ার বিভিন্ন পানি জাদুঘরের ডিজিটাল প্রদর্শনীও থাকবে।
দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার ‘পানি ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় উদ্ভাবন’, ‘আন্তঃসীমানা পানি ন্যায়বিচার ও আঞ্চলিক সহযোগিতা’ এবং ‘ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতি’ নিয়ে বিশেষ অধিবেশন পরিচালিত হবে।
সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে পানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে ‘জবাবদিহিতামূলক পানি শাসন বিষয়ক ঢাকা ঘোষণা’ পেশ করা হবে।
সম্মেলনে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, সেন্টার ফর অল্টারনেটিভসের নির্বাহী পরিচালক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিনিধি সাকিব মাহমুদ এবং বিশিষ্ট পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. হাসিব মো. ইরফানুল্লাহ বক্তব্য রাখবেন।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভারতের উইমেন্স ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ওয়াটার রিসোর্সেস কাউন্সিলের ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ডা. মানসী বাল ভার্গব, পাকিস্তানের আখতার হামিদ খান রিসোর্স সেন্টারের পরিচালক ফাইয়াজ বাকির, জাতিসংঘের ওয়াটার কনভেনশন সেক্রেটারিয়েট সদস্য রেমি কিন্না এবং অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাসের লিড স্পেশালিস্ট (জল শক্তি ও জলবায়ু) ড. জন ডোর অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়াও ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত তুলে ধরবেন।
সম্মেলনে মরক্কোর প্রথম ওয়েসিস ইকোমিউজিয়াম এবং বাংলাদেশের চকরিয়া পানি জাদুঘর নিয়ে বিশেষ উপস্থাপনা থাকবে।
ভার্চুয়াল এই সম্মেলনটি জুম প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে সরাসরি প্রচার করা হবে।


