ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ‘এক বাংলাদেশি বোন দিল্লিতে বসে আছেন’ বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উল্লেখ না করেই তিনি এ কথা বলেন।
নয়াদিল্লি টেলিভিশন (এনডিটিভি) জানায়, গত সপ্তাহে পূর্ণিয়ার নির্বাচনী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেস ও বিহার রাজ্যকে অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়দাতা হিসেবে অভিযুক্ত করেন। জবাবে ওয়াইসি বৃহস্পতিবার বলেন, বিহারে কোনো বাংলাদেশি নেই, বিশেষ করে সীমাঞ্চলে যেখানে তার দল গত নির্বাচনে ভালো ফল করেছিল।
ওয়াইসি বলেন, ‘মোদিজি বলেন বিহারে বাংলাদেশি আছে। মোদিজি, বিহারে বা সীমাঞ্চলে কোনো বাংলাদেশি নেই। তবে আপনার এক বাংলাদেশি বোন দিল্লিতে বসে আছেন। তাকে সীমাঞ্চলে আনুন, আমরা তাকে বাংলাদেশে পৌঁছে দেব।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিহারের নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনীতির শব্দ ততই চড়ছে। অভিযোগ-প্রতিআপত্তির দোলাচলে এবার আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর বিষয়টি। ভোটার তালিকা সংশোধনের পর বিজেপি অভিযোগ তোলে যে, বিহারে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছে। এ অভিযোগের জবাবে সোচ্চার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অন্যতম রাজনৈতিক ইস্যু ও নিরাপত্তা উদ্বেগ। সম্প্রতি দেশজুড়ে বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশিদের শনাক্ত করার জন্য অভিযান চলছে। বিহারে বিষয়টি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমকে ঘিরে।
বিরোধীরা বলছে, এটি দরিদ্র ও সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার খর্বের কৌশল। তবে নির্বাচন কমিশন দাবি করছে, তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কমিশনের তথ্যে বলা হয়, তালিকায় নেপালি, বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের নাগরিকদের নাম পাওয়া গেছে।
মোদিও স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ এবং নির্বাচনী সমাবেশে ‘অনুপ্রবেশকারীর’ প্রসঙ্গ তোলেন। ১৫ সেপ্টেম্বর পূর্ণিয়ার সভায় তিনি বলেন, অনুপ্রবেশের কারণে দেশে ‘জনসংখ্যাগত সঙ্কট’ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, এ কারণে সাধারণ মানুষ বোন-বৌদিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
মোদি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে দেশ থেকে বের করে দেবে। একই সঙ্গে কংগ্রেস ও বিহারকে অভিযুক্ত করেন ‘ভোটব্যাংকের রাজনীতি’ করতে গিয়ে দেশের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলার জন্য।
এ বছরের শেষ বড় নির্বাচনী লড়াই হতে যাচ্ছে বিহারের ভোট। কমিশন আগামী মাসেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারে।


