রাজধানীর ক্লাব ও বারগুলোতে মদ-বিয়ার বিক্রির আড়ালে ‘চিহ্নিত অপরাধীদের’ আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এ বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা টাইমস অব বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় কারা এর সঙ্গে জড়িত তা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। এর মধ্যে রাতের ঢাকায় মাদক সেবন ও রাস্তায় সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিকার নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
বার ও ক্লাব-রেস্টুরেন্টে মধ্যরাত পর্যন্ত মদ-বিয়ার পান করে বের হওয়া লোকজন অপরাধীদের খপ্পড়ে পড়ায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে বলেও আলোচনায় উঠে আসে। অভিজাত এলাকা গুলশান ও উত্তরায় সংঘটিত কয়েকটি ঘটনার কথাও আলোচনা হয়।
এসব ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গাফলতি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বার ও ক্লাবগুলোর লাইসেন্স নবায়নের সময় তাদের নিয়মিত কর পরিশোধ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং সদস্যদের তথ্য হালনাগাদ আছে কিনা তা কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।
এছাড়া হোটেল, বার, ক্লাব ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও নিয়মিত তদারকি ও নজরদারি জোরদারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভার সূত্রগুলো জানিয়েছে, কোন বারে কারা যাচ্ছে, নিয়ম ভেঙে কারা ভোররাত পর্যন্ত খোলা রাখছে, অর্থের অপচয় করা করছে এসব দেখার পাশাপাশি অশ্লীল নাচ এবং ড্যান্সার পরিচয়ে পারমিটধারি তরুণীদের কলগার্ল হিসাবে ব্যবহারের ব্যাপারে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।


