চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান ধর্মঘটে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার সকালে বন্দরের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে এলে ১৫ মিনিট তার গাড়িবহর আটকে রাখে বিক্ষুব্ধরা। পরে পুলিশ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে বহরটিকে বন্দর ভবনে পৌঁছে দেয়।
আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, উপদেষ্টার সভাপতিত্বে বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নিলেও তাদের বৈঠকে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠক থেকেও অচলাবস্থার কোনো সমাধান আসেনি।
এমন পরিস্থিতিতে বৈঠক শেষে নৌ উপদেষ্টা দুপুর ১টায় পতেঙ্গা বোট ক্লাবে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন। কিন্তু শ্রমিক নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। তারা জানান, আলোচনা হলে তা অবশ্যই বন্দর ভবনেই হতে হবে।
তাদের দাবি মেনেই দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে বিক্ষোভকারী শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন এম সাখাওয়াত হোসেন।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এবং শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর নেতাদের সঙ্গে বন্দর ভবনের কনফারেন্স কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আন্দোলনকারী নেতাদের দাবি, উপদেষ্টা তাদের প্রস্তাব মেনে নিয়ে বৈঠকের স্থান পরিবর্তন করেন।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এনসিটি চুক্তি প্রক্রিয়া বাতিল না হওয়া পর্যন্ত চলমান কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে না। নৌ উপদেষ্টার সঙ্গে আমাদের বৈঠক রয়েছে। বৈঠক শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।’
তিনি এর আগে অভিযোগ করেছিলেন, সকালের বৈঠক থেকে শ্রমিক নেতাদের ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরে বোট ক্লাবে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। কথা বলতে হলে বন্দর ভবনেই আসতে হবে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইস্যুতে ‘যুক্তিসংগত সমাধান’ না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার ধর্মঘট চলবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।
সকালে উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘নৌপরিবহন উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।’ তবে শ্রমিকরা আন্দোলন প্রত্যাহার না করলে বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত আসতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

এর আগে, উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের বন্দর ভবনে সফরের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভোর থেকে বন্দর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। ৪ নম্বর জেটি গেট থেকে কাস্টমস মোড় এবং আশপাশের এলাকায় শত শত শ্রমিক ও কর্মচারী জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বন্দর নিরাপত্তা সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
কাস্টমস মোড়ে উপদেষ্টার গাড়ি বহর অবরোধের পর প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের সময় বিপুল সংখ্যক শ্রমিক স্লোগান দিতে দিতে ভেতরে ঢুকে পড়েন। উপদেষ্টা গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশ ও বন্দর নিরাপত্তার বেষ্টনীর মধ্যে দ্রুত তিনি ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।
বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের ব্যবস্থাপনায় দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি হওয়া ও সম্পৃক্ততার বিরোধিতা স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ধর্মঘট চালিয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকাল থেকে আন্দোলন আরও জোরদার হলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।


