বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী নানান নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাথে সমঝোতায় পৌঁছেছেন ক্রিকেটাররা। বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানের নাভানা টাওয়ারে বিসিবি কার্যালয়ে কোয়াবের সদস্যের সাথে আলোচনার পর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু জানান, শুক্রবার থেকে আবার মাঠে গড়াবে বিপিএল।
বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের পর তার পদত্যাগ চেয়ে বৃহস্পতিবার বিপিএলের দুটি ম্যাচ বয়কট করেন ক্রিকেটাররা। পরবর্তীতে তাকে বিসিবির অর্থ কমিটির প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিলেও কাটেনি অচলাবস্থা। দিনভর নানান ঘটনাপ্রবাহের পর সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট নাগাদ বিসিবি সূত্রে জানা যায়, অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যেতে পারে বিপিএল। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই শঙ্কার মেঘ কেটেছে।
মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা কেউই ক্রিকেটের ঊর্ধ্বে না, আমরা সবাই চাই ক্রিকেটের মঙ্গল হোক। আমরা খেলতে চাই। ক্রিকেট না খেলাটা কাম্য না। ক্রিকেটের ইন্টারেস্টে আমরা আবার খেলতে নামছি, বোর্ডের সবার সাথে একটা ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
কোয়াবের সাথে আলোচনার ফলাফল জানিয়ে বিসিবি পরিচালক মিঠু জানান, ১৫ জানুয়ারির দুই ম্যাচ না হওয়াতে নতুন করে নির্ধারিত হয়েছে বিপিএলের সূচি। মিঠু বলেন, ‘আমরা সবাই একমত হয়েছি যে ক্রিকেটটাকে আবার শুরু করতে চাই। আমাদের কোয়ালিফায়ারেরর আগে একদিন একটা গ্যাপ ছিল, রেস্ট ডে ছিল ১৮ তারিখ। আমরা এখন ওই ১৮ তারিখ পর্যন্ত বডিলি শিফট করে নিয়ে যাচ্ছি।’
ঢাকা পর্বের প্রথম দিনের খেলা দেখতে এসে বেশিরভাগ দর্শকই গ্যালারিতে ঢুকতে পারেননি। ক্রিকেটাররা ম্যাচ বয়কট করায় গ্যালারিতে প্রবেশ করতে না পারায় মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের সামনে ভাঙচুরও করেছেন অনেক ক্ষুব্ধ দর্শক। সেই প্রেক্ষিতে মিঠু সাংবাদিকদের আহ্বান করেছেন, যেন নতুন সূচির কথা তারা জানিয়ে দেন দর্শকদের।
বিসিবির আম্পায়ারিং বিভাগের এই চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘আপনারা সাপোর্টারদের জানিয়ে দিবেন যে আজকের ম্যাচটা কালকে হবে, কালকের ম্যাচটা পরশু হবে এবং পরশুর ম্যাচটা ১৮ তারিখে হবে। আই অ্যাম ভেরি হ্যাপি যে আমরা একটা কনক্লুশনে আসতে পেরেছি।’
নিরাপত্তা শঙ্কায় বিসিবির বিশ্বকাপে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েই শুরু ঘটনার সূত্রপাত। বুধবার সন্ধ্যায় মিরপুর স্টেডিয়ামে বিসিবি পরিচালক ও সাবেক অর্থ কমিটির প্রধান নাজমুলের কাছে জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে বিসিবি থেকে ক্রিকেটাররা কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবেন কি না?
এর উত্তরে নাজমুল বলেন, ‘কেন? ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, খারাপ খেলে, তাহলে ওদের পেছনে আমরা যে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করতছি, আমরা কি ওদের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি? এই প্রশ্নের উত্তর দেন আমাকে।’
এরপরই নানান দিকে ডালপালা ছড়ায় ঘটনা। কোয়াবের সভাপতি বিপিএল খেলা সব দলের ক্রিকেটারের সাথে আলোচনার পর জানান, এই মন্তব্যের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে নাজমুলকে, নইলে সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ রাখবেন তার। সেই ধারাবাহিকতায় বিসিবি থেকে পরদিন সকালে আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানানো হয়, নাজমুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন তারা এবং দুই দিনের মধ্যে লিখিত উত্তরও চাওয়া হয়েছে।
কোয়াবের দেয়া আল্টিমেটাম অনুযায়ী, নাজমুল পদত্যাগ না করায় মাঠে গড়ায়নি চট্টগ্রাম রয়্যালস-নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স-সিলেট টাইটান্সের মধ্যকার দুই ম্যাচ। এমনকি মাঠেও আসেনি কোনো দল। যদিও প্রথম ম্যাচ বয়কটের পর একটা ক্ষীণ সম্ভাবনা ছিল দ্বিতীয় ম্যাচটা হওয়ার। কিন্তু বিসিবি থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন ক্রিকেটাররা।
এ নিয়ে ঢাকা ক্যাপিটালস অধিনায়ক ও কোয়াব সভাপতি মিঠুন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ আমাদের সাথে ওই সময় প্রোপার কমিউনিকেশন হয়নি। আমরা মিঠু ভাইকে ফোনেও বলেছি আমরা হোটেলে ওয়েট করছি, আপনি আসেন। তখন উনি বোর্ডের বিভিন্ন ইস্যুতে আটকে গেছেন, আসতে পারেননি। ওই সময় আমাদের এমন কোনো জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি যেটার কারণে আমরা দ্বিতীয় ম্যাচে যেতে পারিনি।’


