ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দ্বন্দ্বে না জড়াতে নিজ নিজ ছাত্র সংগঠনকে নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াত।
ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে ক্যাম্পাসে অনেকটা মুখোমুখি অবস্থানে যায় ছাত্রদল ও শিবির। ভোট শেষ না হতেই দুই প্যানেলের পক্ষ থেকেই একে অন্যের বিরুদ্ধে ভোট চুরি, কারচুপি ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগ করা হয়।
এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে দল দুটির হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক সূত্র টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, কেউ বিশৃঙ্খলা করলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা কঠোরভাবে দমন করবে।
আর এই যোগাযোগের পরেই বুধবার রাতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরকে বিবাদে না জড়াতে নির্দেশনা দেয় বিএনপি ও জামায়াত।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আমরা কথা দিয়েছি ছাত্রদল সংঘর্ষ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে না। আমরা ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছি।’
রাত ১২টার দিকে জামায়াত ইসলামীর একজন নায়েবেও নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ছাত্রশিবির বা জামায়াতের বাইরের কেউ বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশ করবে না। তবে, নেতাকর্মীদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে।’
রাজনৈতিক দল দুটি একাধিক সূত্র বলছে, উত্তেজনা নিরসনে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী এবং ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী টেলিফোনে কথা বলেন দুই দলের নেতাদের সঙ্গে।
মঙ্গলবার সকাল আটটায় শুরু হয়ে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ভোটে আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং কারচুপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাগছাসের সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা।
নির্বাচনের দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ ছিল। তাই বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলোতে অংশ নেন। ভোট চলাকালে প্রেস ক্লাব এলাকায় অংশ নেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। শাহবাগ ও নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থান নেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। শাহবাগের একপাশে বিএনপির নেতাকর্মীরাও ছিলেন।
সন্ধ্যার পর মহানগর ছাত্রদল বাংলামোটর এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে যায়। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থান নেন। জামায়াতও শাহবাগে অবস্থান ধরে রাখে। এতে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়।
এরপরেই সরকারের পক্ষ বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।


