বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীকে অপহরণ করে গুমের ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এ বিষয়ে প্রসিকিউশনের আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেয়।
এর আগে ২১ জুন শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে।
এরপর ২৬ জুলাই রাতে বাসা থেকে তাকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট)। পরে তাকে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, ২০১২ সালের এপ্রিলে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইলিয়াস আলী গুমের মামলা: বিমান বাহিনীর এক উইং কমান্ডার আটক
এর মধ্যে এ ঘটনায় বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন। আবেদনটি মঞ্জুর করে পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীর জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুরের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অবসরপ্রাপ্ত ল্যাফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদসহ এই ঘটনায় অন্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী ও তার গাড়িচালককে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তাদের আর খোঁজ মেলেনি।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশেই ইলিয়াস আলীকে ‘গুম’ করা হয়। আর র্যাবের গোয়েন্দা শাখা তাতে সরাসরি জড়িত ছিল বলে প্রসিকিউশনের দাবি। বিমানবাহিনীর তখনকার স্কোয়াড্রন লিডার সাইফুর রহমান সে সময় র্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন।


