দেশে মশাবাহিত ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুইজনই ময়মনসিংহ বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) বাসিন্দা ছিলেন। নতুন আক্রান্ত ১৫৭ জনের মধ্যে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১৪২ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ১৫ জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ৩৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ৮৮ জন এবং ঢাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগে ২৯৮ জন রোগী ভর্তি আছেন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১১৯ জন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৫ হাজার ৩১৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪ হাজার ৯১৯ জন। এই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ১২ জন।
লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট আক্রান্তের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি, যা প্রায় ৬২.১% (৩ হাজার ৩০৩ জন) এবং নারী আক্রান্তের হার ৩৭.৯% (২ হাজার ১৩ জন)। অন্যদিকে ডেঙ্গুতে মোট প্রাণ হারানো ১২ জনের মধ্যে ৫৮.৩% (৭ জন) পুরুষ এবং ৪১.৭% (৫ জন) নারী।
মাসভিত্তিক আক্রান্তের হার পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি জুন মাসেই ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। জুন মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২ হাজার ১২০ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৭ জন। এর আগে জানুয়ারি মাসে ১ হাজার ৮১ জন আক্রান্ত ও ২ জনের মৃত্যু হয়; ফেব্রুয়ারি মাসে ৪০৯ জন আক্রান্ত ও ২ জনের মৃত্যু হয়; মার্চ মাসে ৩৫৩ জন ও এপ্রিল মাসে ৬৪০ জন আক্রান্ত হলেও কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি এবং মে মাসে ৭১৪ জন আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি একজনের মৃত্যু হয়।
বিভাগ ও সিটি করপোরেশনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছর সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত হয়েছেন বরিশাল বিভাগে, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৪৪০ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ৭৪৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ৪৪০ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৬৮ জন, খুলনা বিভাগে ৫৮০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪৩ জন, রংপুর বিভাগে ৬০ জন এবং সিলেট বিভাগে ৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
মৃত্যুর দিক থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সর্বোচ্চ তিনজন, ময়মনসিংহ বিভাগে দুইজন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, বিশেষ করে ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী সর্বোচ্চ ৭২৬ জন এবং ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৮০ জন আক্রান্ত হয়েছেন।


