বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসরে ম্যাচ ফিক্সিং, অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন এক ক্রিকেটারসহ মোট পাঁচজন। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানায়, বিপিএলে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতি বিরোধী একাধিক ধারা ভঙ্গ করায় সর্বশেষ বিপিএলে অংশ নেয়া ক্রিকেটার, টিম অফিসিয়াল ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে, প্রাথমিকভাবে তাদের বরখাস্ত করেছে বিসিবি।
অ্যালেক্স মার্শালের অধীনে বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী লাবলুর রহমান (লজিস্টিকস ম্যানেজার, চট্টগ্রাম রয়্যালস), তৌহিদুল হক তৌহিদ (সহ-স্বত্তাধিকারী, নোয়াখালী এক্সপ্রেস), অমিত মজুমদার (প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার) ও রেজওয়ান কবির সিদ্দিকীর (টিম ম্যানেজার, সিলেট স্ট্রাইকার্স) বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ গঠন করেছে বিসিবি। তাদের আপাতত ক্রিকেট সম্পর্কিত সব ধরনের কর্মকান্ড থেকে বরখাস্ত করা হলেও আগামী ১৪ দিনের মধ্যে এসব অভিযোগের বিপক্ষে উত্তর দেয়ার সুযোগ থাকছে।
তাদের সাথে সামিনুর রহমান, যিনি সর্বশেষ বিপিএলে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সিইও হিসেবে প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিট। তার বিরুদ্ধে কেবল গত বিপিএলই নয়, নবম, দশম এবং একাদশ আসরেও বাজি ও ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ আছে। সেই প্রেক্ষিতে ‘এক্সক্লুশন পার্সন পলিসি’ অনুযায়ী তাকে একটি নোটিশও পাঠিয়েছে বিসিবি। বিসিবির গঠনতন্ত্রের এই নিয়মানুযায়ী আনিত অভিযোগের বিপক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকার পরেও সেই পথে হাঁটেননি তিনি, মেনে নিয়েছেন বহিষ্কারাদেশ।
বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসি দুর্নীতি বিরোধী কোডের বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের দায়ে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়, দলের কর্মকর্তা, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক এবং অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসরকে কেন্দ্র করে বিসিবি ইনটেগ্রিটি ইউনিটের তদন্তের প্রেক্ষিতে এই অভিযোগগুলো আনা হয়েছে। তদন্তে দুর্নীতির চেষ্টা, বেটিং বা জুয়ায় সম্পৃক্ততা, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্ত কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া গেছে।’
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে
লাবলুর রহমান (লজিস্টিকস ম্যানেজার, চট্টগ্রাম রয়্যালস)
অনুচ্ছেদ ২.৪.৬: কোনো জোরালো কারণ ছাড়াই ড্যাকোর (DACO) তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকার বা ব্যর্থ হওয়া (অনুচ্ছেদ ৪.৩ এর অধীনে নোটিশ পালনে ব্যর্থতাসহ)
অনুচ্ছেদ ২.৪.৭: তদন্ত কাজে বাধা সৃষ্টি বা বিলম্ব করা (তথ্য ও যোগাযোগ সংক্রান্ত প্রমাণ গোপন, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করাসহ)
তৌহিদুল হক তৌহিদ (সহ-স্বত্তাধিকারী, নোয়াখালী এক্সপ্রেস)
অনুচ্ছেদ ২.৪.৬: তদন্তে ড্যাকোকে সহযোগিতা করতে অস্বীকার বা ব্যর্থ হওয়া।
অনুচ্ছেদ ২.৪.৭: তদন্ত কাজে বাধা প্রদান বা বিলম্ব করা এবং তথ্য গোপন বা ধ্বংস করা।
অমিত মজুমদার (প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার)
অনুচ্ছেদ ২.২.১: ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা অন্য যেকোনো বিষয়ে বাজি ধরা বা বাজি গ্রহণ করা।
রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার, সিলেট স্ট্রাইকার্স)
অনুচ্ছেদ ২.২.১: ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল বা খেলার যেকোনো পরিস্থিতির ওপর বাজি ধরা বা বাজিতে অংশ নেওয়া।


