হবিগঞ্জের চুনারুঘাটভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্টকে (পাশা) ১০ হাজারের বেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শনিবার রাতে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আখতার আহমদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
তিনি বলেন, ‘পাশা’ নামে একটি বেসরকারি এনজিও ১০ হাজারের বেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি যাচাই করে সংস্থাটির সক্ষমতা সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত হতে না পারায় পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, পর্যবেক্ষক কার্ড স্থগিতের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো চিঠি বা আনুষ্ঠানিক তথ্য পাননি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চুনারুঘাট উপজেলার বরমপুর গ্রামে নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের নিজস্ব দুইতলা বাড়িতেই ‘পাশা’র সাইনবোর্ড ঝুলানো রয়েছে। জেলা শহরসহ কোথাও সংস্থাটির কোনো দৃশ্যমান অফিস বা কার্যক্রম নেই বলে দাবি করেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সংস্থাটির তথাকথিত অফিসটি মূলত নির্বাহী পরিচালকের ব্যক্তিগত বাসভবনের একটি কক্ষ। সেখানে কয়েক হাজার পর্যবেক্ষকের আবেদনপত্র রাখা রয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে ১২ জন কর্মী কাজ করার দাবি করা হলেও নিয়মিত কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম বা জনবল সেখানে চোখে পড়েনি।
এর আগে শুক্রবার একটি জাতীয় দৈনিকে ‘পাশা’কে নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজের বাড়ির একটি কক্ষকে অফিস হিসেবে দেখিয়ে একাই সংস্থাটি পরিচালনা করছেন নির্বাহী পরিচালক হুমায়ুন কবীর। অথচ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সংস্থাটি ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সমালোচনার প্রেক্ষিতেই ‘পাশা’র পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ৮১টি দেশীয় সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ‘পাশা’র পর্যবেক্ষক সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৫৫৯ জন, যা মোট অনুমোদিত পর্যবেক্ষকের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।


