জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতালে অব্যবস্থাপনার মূল কারণ দায়িত্ব পালনে ঘাটতি ও তদারকির অভাব বলে মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার সকালে রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতও উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী প্রায় দেড় ঘণ্টা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীদের কাছে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা, খাবারের মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কাজে অদক্ষতা রয়েছে, যার ফলে ছোট সমস্যাগুলো বড় সমস্যায় পরিণত হচ্ছে।’
টিকিটিং মেশিন থাকলেও টোনার না থাকায় রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সমস্যা আগেই ব্যবস্থা নিয়ে সমাধান করা সম্ভব ছিল। তা করা হয়নি।’
খাবারের মান নিয়েও রোগীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত খাবার দেওয়া হলেও কলার মান নিম্নমানের এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম থাকতে পারে।’
এ ছাড়া হাসপাতালের বেডে ছাড়পোকার সমস্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলেও জানান সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের বেডে ছাড়পোকার সমস্যার অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা রোগীদের জন্য অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি করছে।’
এ সময় চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কতজন চিকিৎসক অনুপস্থিত রয়েছেন সে বিষয়ে হাসপাতালের প্রধান ব্যবস্থাপনা তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য দিতে পারেনি।’
হাসপাতালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আগামী সপ্তাহে তিনি আবারও আকস্মিক পরিদর্শনে যেতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেন। মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় হাসপাতালে রোগীর চাপ থাকবে। তবে দায়িত্বশীলদের আন্তরিকতা থাকলে অনেক সমস্যাই এভাবে থাকার কথা নয়।’
দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ হাসপাতালকে অন্য সকল হাসপাতালের চাইতে আরেকটু বেশি মানবিক হতে হবে।’
এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান হওয়ার পরও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে নেতৃত্ব সঙ্কট রয়েছে। সেই সঙ্গে অব্যবস্থাপনাও আছে।’
তবে অধিকাংশ অভিযোগই স্বীকার করেছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান।


