বিতর্কিত সাজ্জাদকে বিদায় করল এনএসসি

বিতর্কিত সাজ্জাদকে বিদায় করল এনএসসি
জিএম হায়দার সাজ্জাদ। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

দেশের শুটিং অঙ্গন এখন উত্তাল। নারী শুটারদের ওপর যৌন ও মানসিক নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগে বিদ্ধ শুটিং ফেডারেশনের প্রভাবশালী যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদকে অবশেষে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। গত বৃহস্পতিবার এনএসসির নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। তবে এই অব্যাহতির দিনেই ঘটে গেছে আরেক নাটকীয় ঘটনা; নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া অভিযোগকারী নারী শুটার কামরুন নাহার কলিকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে শুটিং ফেডারেশন।

সাজ্জাদকে অব্যাহতির আদেশে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন-২০১৮-এর দোহাই দেওয়া হয়েছে, যেখানে অ্যাডহক কমিটির কর্মকর্তাদের অব্যাহতি দেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার এনএসসির রয়েছে। উল্লেখ্য, এই অ্যাডহক কমিটি গঠনের সময় থেকেই সাবেক শুটার সাজ্জাদকে নিয়ে সাধারণ শুটারদের মধ্যে তীব্র আপত্তি ছিল। সার্চ কমিটির সুপারিশে নাম না থাকলেও রহস্যজনকভাবে তিনি পদ বাগিয়ে নেন এবং অল্প সময়েই ফেডারেশনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত হন। তার বিরুদ্ধে নারী শুটারদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগে ইতিমধ্যে রাজপথে মানববন্ধন ও আদালতেও মামলা গড়িয়েছে।

মজার বিষয় হলো, যে দিন এনএসসি অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সাজ্জাদকে সরিয়ে দিল, ঠিক সেই দিনই অভিযোগকারী কলির বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হলো ফেডারেশন। সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কোড অফ কন্ডাক্ট ভঙ্গের নানা ধারা এনে কলিকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। অলিম্পিক বৃত্তির আওতায় থাকা এই নৌবাহিনী শুটিং ক্লাবের শুটারকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা নিয়ে তিন দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকেও জানানো হয়েছে।

নিপীড়নের অভিযোগ তদন্তে এনএসসি এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পৃথক দুটি কমিটি গঠন করেছিল। এনএসসির তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নিবেদিতা দাসের অধীনে চলমান তদন্তে সাজ্জাদ বারবার অসহযোগিতা করেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। গত ১৭ ডিসেম্বর মৌখিক সাক্ষ্য দিলেও লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি গড়িমসি করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়ার আগেই এনএসসি তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে, তদন্ত চলাকালীন সাজ্জাদ ফেডারেশনে সক্রিয় থাকায় শুটারদের মধ্যে যে ভীতি ও অসন্তোষ ছিল, কলিকে বহিষ্কারের নোটিশ সেই ক্ষোভের আগুনে যেন আরও ঘি ঢেলে দিল। শুটারদের প্রশ্ন, ন্যায়বিচার কি তবে এভাবেই মুখ থুবড়ে পড়বে?

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad