চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে অপহরণের চেষ্টা পণ্ড করায় এবং অপহরণকারীকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার জেরে ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
‘ডেভিড জিহাদ’ পরিচয় দিয়ে এক তরুণ প্রধান শিক্ষককে গুম ও খুনের হুমকি দেন দাবি করে লোহাগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে লোহাগাড়া সদরের ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ হোসাইনকে (১৬) স্কুল থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিয়ান মো. আয়ান (১৫) এবং তার চার-পাঁচজন অজ্ঞাতনামা সহযোগী। আবদুল্লাহ হোসাইন পশ্চিম আমিরাবাদের খৈয়ারকুল এলাকার নাজিম উদ্দিনের ছেলে।
অপহরণের বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া (৪২) তাৎক্ষণিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন এবং সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে অপহরণকারীদের পিছু ধাওয়া করেন। পরবর্তীতে আমিরাবাদ স্টেশনের আইস পার্ক সংলগ্ন ইনসাফ রেস্তোরাঁর সামনে থেকে তারা শিক্ষার্থী আবদুল্লাহকে উদ্ধার করেন এবং অপহরণকারী আরিয়ান মো. আয়ানকে হাতেনাতে আটক করে লোহাগাড়া থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। তবে মারধরের সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, আটককৃত আয়ানকে এক বছর আগেও হকিস্টিকসহ বিদ্যালয়ে আটক করা হয়েছিল। সে সময় তার অভিভাবকেরা ভবিষ্যতে এমন আচরণ করবে না মর্মে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়েছিলেন।
আয়ানকে পুলিশে সোপর্দ করার জের ধরে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একটি হুমকি সম্বলিত কল আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, মেহেজাদ হোসেন জিহান (১৯) নামের এক তরুণ তার ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে কল করে নিজেকে ‘ডেভিড জিহাদ’ পরিচয় দেয় এবং প্রধান শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
কল রেকর্ডে হুমকিদাতাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি করে দেখাই যে, আমি করে তারপর বলি যে। আমি ডেভিড জিহাদ, আপনি থানায় গিয়ে মামলা দেন। আপনার ফ্যামিলির প্রত্যেকটা মানুষ, আপনার ছেলে… আপনি ভুল জায়গায় হাত দিছেন, বুঝছেন!’
আইনের আশ্রয় নিলে প্রধান শিক্ষক ও তার পরিবারের সদস্যদের রাস্তায় একা পেলে মারধর, গুম এবং খুন-জখম করাসহ মিথ্যা মামলায় জড়ানোরও হুমকি দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত মেহেজাদ হোসেন জিহান আমিরাবাদের উকিল পাড়া স্কুল রোড এলাকার মো. জাবেদের ছেলে। তিনি যে নম্বর থেকে কল করেছিলেন, সেটির প্রকৃত মালিক লোহাগাড়ার বার আউলিয়া কলেজের শিক্ষার্থী রিপন।
রিপন জানান, জিহাদ তার পরিচিত এবং সন্ধ্যায় তার মোবাইল থেকে কাউকে ফোন করেছিলেন। তবে কী কারণে এবং কাকে ফোন করেছিলেন সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।
এদিকে আটক কিশোর আয়ানকে থানায় নিয়ে আসার পর প্রধান শিক্ষকের প্রতিবেশী ও স্থানীয় এক যুবদল কর্মীর মধ্যস্থতায় তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে লোহাগাড়া থানায় উভয়পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে এক সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা বিষয়টি থানায় অবহিত করি। অভিযুক্তরা কমবয়সী হওয়ায় এবং তাদের অভিভাবকেরা ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না মর্মে নিশ্চয়তা দেওয়ায় আমরা থানায় সমঝোতায় এসেছি। তবে ‘ডেভিড জিহাদ’ পরিচয়ধারী তরুণের হুমকির পর থেকে আমি আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কায় আছি।”
এ বিষয়ে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘ঘটনাটি বড় কোনো বিষয় নয়। এটি মূলত শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যকার একটি অভ্যন্তরীণ ভুল বোঝাবুঝির বিষয় ছিল যা পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।’
তবে ‘ডেভিড জিহাদ’ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির হুমকির কল রেকর্ড বা লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না বলে দাবি করেন।


