ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর প্রতিবাদে ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ভবনে ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার ৪৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালত জামিন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন দেলোয়ার হোসেন, সৈয়দ আহমেদ শুভ, শাহজাহান, অপূর্ব ইসলাম, শরিফুল ইসলাম নিলয়, জাহিদ হাসান হৃদয়, শাহেদ ভূঁইয়া, বুলবুল আহমেদ, দীপক হাজরা, মান্না হোসেন, ইয়াছিন আরাফাত অর্নব, আশরাফ উদ্দিন, শাহ জালাল, শাহিন, নাঈম, সাইদুর রহমান, ইমতিয়াজ আহমেদ হৃদয়, রমজান, সাব্বির হোসেন, শাহিন, তরিকুল ইসলাম রিফাত, মঈন হোসেন রাজন, অনিক হোসেন।
এ ছাড়া তরিকুল ইসলাম, রিফাত হোসেন, হানিফ মিয়া, শাহাদাৎ হোসেন রাব্বি, সোহানুল হক, তারেক আজিজ, সাজ্জাদ ইসলাম, শিপন, এজাজ হোসেন সিয়াম, উনায়েস ইমরান, মনিব আক্তার, হারিজ, সাব্বির হোসেন বিজয়, এস এম মতিউর রহমান, রাজন শেখ, আবু সাদিক রাকিব, মামুন ব্যাপারী, মজিবুর রহমান, সালাউদ্দিন ব্যাপারী, আমিনুল ইসলাম নাইম, রাকিবুল হাসান রাকিব ও আব্দুল্লাহ সবুজ।
এদিন আসামিদের হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক শামসুজ্জোহা সরকার তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আসামিদের পক্ষে আইনজীবী সাগর তরফদারসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
শুনানি শেষে আদালত থেকে জামিন নামঞ্জুর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার এনইআইআর চালুর প্রতিবাদে বিটিআরসি ভবনে সামনে বিক্ষোভ করেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা।
এ সময় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
এ ঘটনায় বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্স বিভাগের সহকারি পরিচালক মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জাহেদ শেরেবাংলা নগর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী সংশ্লিষ্টরা এর আগে বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন করেন।
তাদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান আন্দোলনকারীদের নিয়ে একাধিকবার তাদের দাবি দাওয়ার বিষয়ে সুরহার জন্য বৈঠক করে।
পরে এই বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তক্রমে বৃহস্পতিবার এনইআইআর সিস্টেম আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু করা হয়।
গ্রেপ্তার এই ৪৫ আসামিসহ পলাতক নয়জনসহ অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৬০০ জন আন্দোলনকারী বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বিটিআরসি ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয় এবং আন্দোলন করতে থাকে।
আন্দোলনের এক পর্যায়ে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের শান্তি-শৃংঙ্খলা বিনষ্ট করার লক্ষ্যে জনগণের সম্পদ ধ্বংস, কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ জনমনে ভীতি সৃষ্টি করতে চায়।
ফলে বিটিআরসি ভবনের বাহিরের কাঁচের দেয়ালসহ ভবনে ভাঙচুর করে আনুমানিক দুই কোটি টাকার ক্ষতি করে বিক্ষুদ্ধরা।
এ ছাড়া, তারা বিআরটিসি ভবনের সামনে থাকা ৫১ সিট বিশিষ্ট বিটিআরসির এসি স্টাফবাস পুড়িয়ে এক লাখ টাকার ক্ষতি করে।


