জাতীয় সংসদের চলমান প্রথম অধিবেশনের মুলতবির পর পুনরায় অধিবেশন শুরু হচ্ছে। রোববার বিকাল ৩টায় সংসদের অধিবেশন বসবে। এই অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা করবেন সরকারি দলের সদস্যরা।
এর আগে, গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশন ঈদুল ফিতরসহ বিভিন্ন ছুটির কারণে ১৫ মার্চ মুলতবি করা হয়। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তৃতীয় দিনে মূলত রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। এতে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা অংশ নেবেন। এছাড়া মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন ও তার ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা অংশ নেবেন। সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
এদিকে এদিন দুপুর দেড়টায় সরকারি দলের সংসদীয় বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে, যার নেতৃত্ব দেবেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে, শনিবার বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সরকারি দলের সংসদীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দেশের জ্বালানি তেলের সংকট, কালোবাজারি রোধ, ঈদের ছুটিতে সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে প্রভাব এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়সহ একাধিক ইস্যুতে আলোচনা হয়। এছাড়া সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় কাউকে কটাক্ষ না করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া, রাত সাড়ে ৮টায় সংসদের কেবিনেট কক্ষে একটি বিশেষ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। ওই বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যালোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। কোনগুলো বহাল থাকবে এবং কোনগুলো বাতিল হবে, তা প্রায় চূড়ান্ত করা হবে।
এরপর আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। বিরোধী দলের বাধার মুখে পড়লে হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে স্পিকার এগুলো আইন হিসেবে পাস করতে পারেন বলেও জানা গেছে।


