কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলীয় বাহারছড়ায় জেলের জালে ধরা পড়েছে বিশাল আকারের একটি পোয়া মাছ। প্রায় ২০ কেজি ওজনের মাছটি বিক্রি হয় লাখ টাকায়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বাহারছড়ার জাহাজপুরা ঘাটে স্থানীয় বাজারে ১ লাখ ৫ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন ব্যবসায়ী আব্দুল আমিন।
জেলে মোহাম্মদ বাবু জানান, প্রতিদিনের মতোই সকালে তারা মাছ ধরতে সমুদ্রে যান। কিছুক্ষণ পর জাল ফেললে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সঙ্গে এই বিশাল পোয়া মাছটিও আটকা পড়ে।
‘জাল তোলার সময় আমরা বুঝতে পারি কিছু একটা ভারী জিনিস উঠছে। পরে দেখি, বিশাল এক পোয়া মাছ জালে ধরা পড়েছে। এমন বড় মাছ আমরা খুব কমই পাই,’ বলেন তিনি।
প্রথমে মাছটির দাম দেড় লাখ টাকা হেঁকেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দরদাম শেষে ১ লাখ ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি। এমন বড় মাছ ধরা পড়ায় জেলেরা খুব খুশি। সাগরের ঝুঁকিপূর্ণ জীবনের মাঝেও এই ধরনের মাছ জেলেদের মুখে হাসি ফোটায়।’
ব্যবসায়ী আব্দুল আমিন জানান, অল্প লাভে স্থানীয় বাজারে মাছটি আবার বিক্রির পরিকল্পনা করছেন তিনি।
এ মাছের চাহিদা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাজারে সবসময় এ ধরনের বড় পোয়া মাছের চাহিদা থাকে। এর বায়ুথলি (এয়ার ব্লাডার) বিদেশে রপ্তানি করা হয়, যা দিয়ে তৈরি হয় বিশেষ মানের সার্জিক্যাল সুতা। তাই দাম অনেক বেশি।’
টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বায়ুথলি বা এয়ার ব্লাডারের কারণেই পোয়া মাছের মূল্য এত বেশি। এই অংশ থেকে তৈরি করা হয় সার্জারিতে ব্যবহৃত সূক্ষ্ম অপারেশনাল সুতা, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দারুণ জনপ্রিয়। উপকূলীয় অঞ্চলে মাঝে মাঝেই জেলেদের জালে এ ধরনের দামি পোয়া মাছ ধরা পড়ে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান সামুদ্রিক মাছ।’
স্থানীয় জেলেরা জানান, বড় আকারের পোয়া মাছ সাধারণত বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে বিচরণ করে। এদের শিকার করা তুলনামূলকভাবে কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তাই মাছটি ধরা পড়লে জেলেরা সেটিকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে মনে করেন।
বাহারছড়া ঘাটে মাছটি বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়লে মাছ দেখার জন্য ভিড় করেন স্থানীয়রা। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।


